
লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার তিনটি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও তিনজনকে পুশ ইন করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়রা।
শনিবার (১৪ জুন) ভোরে পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন এবং একই দিন হাতীবান্ধার সিঙ্গিমারী সীমান্ত দিয়ে ৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাটগ্রামের ডাঙ্গাপাড়া সীমান্তে প্রধান পিলার ৮৫৩-এর ১ নম্বর উপপিলার সংলগ্ন ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চেঙ্গেরবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভোর সাড়ে ৪টায় ভারতের ১৬৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের রতনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতীয় তিন পুরুষ এবং বাংলাদেশি এক নারী ও দুই পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।
পরে আজিজপুর গ্রামের কমলার বাজার এলাকায় স্থানীয়রা তাদের দেখে বিজিবিকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বিজিবির রংপুর ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) শ্রীরামপুর ক্যাম্পের সদস্যরা গিয়ে তাদের আটক করে।
অন্যদিকে, একইদিন ভোরে প্রধান পিলার ৮৯১ ও ৩ নম্বর উপপিলারের সিঙ্গিমারী সীমান্ত দিয়ে ভারতের কোচবিহারের তিলক ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। এদেরও বিজিবি আটক করে এবং পরবর্তীতে হাতীবান্ধা থানায় হস্তান্তর করে।
এছাড়া পাটগ্রামের পূর্ব সারডুবি সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজনকে পুশ ইন করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করে বিজিবি ও স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীরামপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার জুবায়ের রহমান জানান, পুশ ইনের শিকার ব্যক্তিরা আগে ভারতীয় চা বাগানে অবস্থান করছিলেন।
তবে এ বিষয়ে রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ মোহাম্মদ মুসাহিদ মাসুমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজিবি ও বিএসএফ উভয় পক্ষই বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন পুশ ইন ঘটনা বন্ধে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।
Related