


পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নদী ভাঙনে নদীর পারের মানুষের দুর্বিষহ জীবনযাপন। ক্ষুব্ধে এর পরে আর কোনো নির্বাচনে কাউকে ভোট না দেয়ার প্রতিশ্রুতি এলাকাবাসীর। উপজেলার ৫নং সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বগুড়া পাড়া এলাকার পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া পাথরাজ নদীর হ্রিংসতায় মাথায় যেনো হাত পরেছে স্থানীয়দের। গতকাল সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নদীভাঙনে ঘরবাড়ি আবাদি জমি হারিয়ে পাগল প্রায় স্থানীয়রা। একজন তার থাকার ঘর অর্ধেক নদীতে চলে গেছে আর অর্ধেক সরিয়ে নিয়ে চলাচলের রাস্তা করে দিয়েছেন।
নদী ভাঙনে বসত বাড়ি, আবাদি জমির সাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ওই এলাকার ৫টি গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তা। বিলীন হয়েছে মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, মাজার, কবরস্থানসহ খেলার মাঠ। বিগত বছরগুলোতে নদী পারের মানুষের জান মাল রক্ষায় স্থানীয় ও সংসদীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচনী ইশতেহার থাকলেও তা আর দৃশ্যমান হয়নি কখনো। যা শুধু মাত্র ছিলো প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের দ্বারা জনসাধারণের কাছে দেওয়া মিথ্যা আশ্বাস ও নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরিকল্পনা। তাই এবার আর মৌখিক নয় সমস্যার সমাধান চান ওই এলাকার বসবাসরত প্রায় ২ হাজার ভোটার। না হলে প্রার্থীদের ওই এলাকার ভোটের আশা বাদ দিতে বলেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এর আগেও শিশুকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো করে নদী পারের স্থানীয়দের দেওয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে মাপ যোগ করেছিলো জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু তার পরে আর নদী তীর রক্ষায় নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। যার ফলশ্রুতিতে আজ ওই এলাকার বেহাল দশা।
এদিকে চলাচলের রামতা না থাকায় অন্যের থাকার ঘরের অংশ সরিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করতে দেখা গিয়েছে। অনেকেরই নিজেদের পরিবার পরিজন থাকার নেই কোনো ঘর। তাই নিজেরদের বাকি সম্পদ টুকু টিকিয়ে রেখে জীবন চালাতে চান স্থানীয়রা। চান ভাঙ্গন রোধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর।
নদী পাড়ের বাসিন্দা রাসেল জানান, আমাদের এই পাথরাজ নদীর পাশে বাড়ি আমাদের আবাদি জমি, মসজিদ, চলাচলের রাস্তা সহ অনেক ক্ষতির মুখে পরেছে বগুড়া পাড়া মানুষ। আমরা এর আগে অনেকের পিছে পিছে ঘুরেও কোনো সমাধান পাইনি। আমরা আর কাউকে ভোট দিবোনা। একই এলাকার আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের এই পাথরাজ নদী পূর্ব পুরুষের সৃতি টুকু নিয়ে গেছে। এখন আর আমাদের যেটুকু সম্পদ আছে নদীতে চলে যাচ্ছে আমরা কি সরকারি কোন সহযোগিতা পাব না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে গরু,ছাগলের দড়ি দিয়ে মাপ যোগ করে চলে যায় আর আসে না।
এভাবে আর কত বাড়ি জমি, নদীতে গেলে আমরা সরকারি সহযোগিতা পাব। এলাকাবাসীর বক্তব্য যত দ্রুত আমাদের এই নদী ভাঙনের রোধ করে শান্তিতে একটু ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দেন। প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।