গত বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়,গঙ্গাচড়া কৃষি অফিসের সরকারি গুদাম থেকে আনুমানিক ১২৯৬ কেজি বীজ ধান বিক্রি করেন কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ৮০% বীজ বিএডিসি সরবরাহ করে, বাকি ২০% বীজ স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকে কেনার কথা থাকলেও সেই বীজ কেনা হয়েছে উত্তর মান্দ্রাইন এলাকার শাহিন নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে । পরে ওই ব্যবসায়ী শাহিনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,আমি এই ধান কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে কিনেছি ২৮ টাকা কেজি দরে। আমন ধানের বীজ বিতরণের কিছুদিন আগে কৃষি অফিস আমার কাছ থেকে ১ হাজার ১শ ৮০ কেজি ধান কিনেছে। দুই বছর ধরেই আমি কৃষি অফিস থেকে ধান কিনছি । আবার যখন অফিসের প্রয়োজন হয় তখন তারা আমার কাছ থেকে অফিস কিনে নেয়। এভাবে দুই বছর ধরে কৃষি অফিস আমার সাথে ধান ক্রয় – বিক্রয় করছে ।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বরাদ্দকৃত বীজ ধানের সিংহভাগই কৃষকদের হাতে যায় না। বরং প্রভাবশালী মহলের মধ্যেই তা ভাগ হয়ে যায়। এবার সরাসরি ব্যবসায়ীর কাছে ধান বিক্রির ঘটনা আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষক সংগঠনের নেতারা। তারা বলছেন, সরকারি সম্পদ এভাবে লোপাট হলে কৃষি ব্যবস্থায় ভরসা থাকবে না, ক্ষতিগ্রস্থ হবে উপজেলার কৃষি ব্যবস্থাপনা।
প্রতি বছর গঙ্গাচড়ায় সরকারি বীজ ধানের চাহিদা প্রায় ৮০০–১২০০ জন কৃষকের মধ্যে থাকে, অথচ অনিয়মের কারণে বহু কৃষক বারবার বঞ্চিত হন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় ১০ মেট্রিক টনের অধিক ধান বরাদ্দ থাকলেও মাত্র একাংশ কৃষকদের হাতে তা পৌঁছেছে। কৃষি এবং কৃষকের বিষয় নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসারের এমন দূর্ণীতিমূলক কর্মকাণ্ড কৃষকের জন্য হুমকি স্বরূপ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এটা আমার ব্যক্তিগত কেনাবেচা, সরকারি বরাদ্দের বীজ নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ভুল স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, এ বিষয়টি নাইটগার্ড মুমিন আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে অবগত করা হবে।