1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফাহিমের মাল্টা বাগান: বছরে আয় ১০ লাখ টাকা | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফাহিমের মাল্টা বাগান: বছরে আয় ১০ লাখ টাকা

শাহিনুর রহমান, ডোমার (নীলফামারী)
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৫২ জন দেখেছেন

বর্তমানে সহজলভ্য ও জনপ্রিয় ফলের মধ্যে অন্যতম মাল্টা। ভিটামিনসমৃদ্ধ এ ফল পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদন হলেও এখন সমতল ভূমিতেও ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সহজলভ্য এ ফল পুষ্টিগুণেও ভরপুর। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ মাল্টা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ভালো রাখে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করে। তাই দিন দিন এ ফলের চাহিদা বেড়েই চলেছে।

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকো প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদুজ্জামান ফাহিম। তার বাগানে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা, রয়েছে এক হাজারের বেশি গাছ।
ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা মনোভাবের ছিলেন ফাহিম। এসএসসি পরীক্ষার আগেই বাবাকে হারিয়ে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয় তাকে। এইচএসসি শেষে তিন একর জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন। উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় সিলেট থেকে বারি-১ জাতের চারা এনে শুরু হয় তার যাত্রা। বর্তমানে বাগানে প্রায় এক হাজার গাছ রয়েছে।
শুধু নিজের আয় নয়, তার বাগানে কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয় কয়েকজনের। তারা জানান, ফাহিমের মাল্টা বাগানে সারাবছর কাজ করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। মাল্টার স্বাদ ও গুণে মুগ্ধ হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা বাগান থেকে মাল্টা কিনে নিচ্ছেন।
ফাহিম জানান, প্রায় ২০ একর জমিতে বিভিন্ন কৃষি প্রকল্প পরিচালনা করছেন তিনি, যার মধ্যে তিন একর মাল্টা চাষ। এবছর তৃতীয় দফায় ফলন মিলছে। আশা করছেন প্রায় ১৬-১৮ টন মাল্টা উৎপাদন হবে, যার বাজারমূল্য ৯-১০ লাখ টাকা। তিনি বলেন, “রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে পড়ার সময় স্যারের মাল্টা বাগান দেখে অনুপ্রেরণা পাই। পরে কৃষি অফিসের পরামর্শে বাগান শুরু করি। যারা নতুন করে মাল্টা চাষ করতে চান তাদের আমি বলবো, কৃষিতে আপনাদের স্বাগতম। মা ও মাটির কল্যাণে কৃষিকে এগিয়ে নিতে হবে।”
ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ফাহিমের মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে কৃষি বিভাগের সহায়তায়। আমরা সার, কীটনাশক ও নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। গত বছরের চেয়ে এবছর তার ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি এবার সে আরও বেশি লাভবান হবে।”
অনেকের মতে, চাকরির পেছনে না ছুটে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা যদি কৃষিতে উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসে, তবে একদিকে কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে দেশের কৃষি খাত আরও এগিয়ে যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )