
রংপুরের পীরগাছায় প্রেম করে বিয়ে করা নুসরাত জাহান নুপুর (১৮) নামে ৩ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা এক তরুণীকে বাবার বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে এনে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত নুপুরের স্বামী আহাদ হোসেনকে (২১) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের স্বতন্তরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের স্বতন্তরা গ্রামের নুরুন্নবী মিয়ার মেয়ে নুসরাত জাহান নুপুর এবং একই ইউনিয়নের পাঠক শিকড় গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে আহাদ হোসেন প্রায় আট মাস আগে প্রেম করে বিয়ে করেন। বিয়ের বিষয়টি ছেলেপক্ষ মেনে নিলেও মেয়েপক্ষ তা মেনে নেয়নি।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে অসুস্থতার কথা বলে নুরুন্নবী মিয়া তার মেয়েকে দেখতে আসার জন্য বাড়িতে ডেকে নেন। নুসরাত বাবার বাড়িতে যাওয়ার পরদিন থেকেই তার স্বামী আহাদকে তালাক দিতে চাপ দেয়।
এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সকালে কৌশলে আহাদকেও শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। পরে রাতে নুসরাত ও তার স্বামী আহাদকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পর্যায়ে বড় ভাই ঋতুর নির্যাতনে নুসরাত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, গলায় হালকা দাগ দেখা গেলেও মরদেহে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার স্পষ্ট কোনো চিহ্ন ছিল না। তাঁদের সন্দেহ, মারধরে মৃত্যুর পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। তবে স্বজনদের দাবি, এটি হত্যাকাণ্ড হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশ ইউডি মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
আহাদের বাবা মমিন মিয়া বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে আমার ছেলে ও তার স্ত্রীকে ডেকে এনে মারধর করা হয়েছে। এতে নুসরাতের মৃত্যু হয়েছে এবং আমার ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে।’ পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মহিব্বুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Related