1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
রাজারহাটে দূর্গারাম ক্যানেলের উপর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজই এখন মরণফাঁদ | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

রাজারহাটে দূর্গারাম ক্যানেলের উপর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজই এখন মরণফাঁদ

ইমতিয়াজুল ইসলাম লাভলু, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪২ জন দেখেছেন

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় দূর্গারাম আবাসন প্রকল্প সংলগ্ন ক্যানেলের ওপর নির্মিত প্রায় ৩৬ বছর পুরোনো একটি সরু ব্রীজের মাঝখানের পাটাতন ভেঙে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে দূর্গারাম আবাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আবাসন প্রকল্পের শতাধিক পরিবারসহ আশপাশের অন্তত আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গতকাল সোমবার সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের দূর্গারাম আবাসন প্রকল্প চালুর পর রাজারহাট থেকে আবাসন পর্যন্ত সড়কটি পাকা করা হলেও প্রকল্পের অদূরে ক্যানেলের ওপর নির্মিত সরু ব্রীজটি আর সংস্কার করা হয়নি। ১৯৯৬ সালের পূর্বে নির্মিত এই ব্রীজটির মাঝখানের পাটাতন প্রায় ১০ বছর আগে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী।

এই ব্রীজ ব্যবহার করে ১০০ ঘরের আবাসন প্রকল্পের প্রায় চার শতাধিক অসহায় পরিবারসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। ব্রীজটি সরু হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসিনা বেগম (৪০) বলেন, তার মেয়ে মরিয়ম দূর্গারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ব্রীজ ভেঙে যাওয়ায় ভয়ে সে স্কুলে যেতে চায় না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে তাকে ব্রীজ পার করে স্কুলে পৌঁছে দিতে হয়।
প্রবীণ বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন (৭৩) জানান, এলাকাবাসী নিজেরাই বস্তায় মাটি ভরে ভাঙা অংশ সাময়িকভাবে সংস্কারের চেষ্টা করেছেন। তবুও এখানে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন।
ব্রীজের পাশের আনিছুর রহমান (৪০) বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্রীজ পার হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বন্যার সময় সড়ক ও ব্রীজের দুই পাশের মাটিও ধ্বসে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৫-১৬ সালের দিকে ব্রীজটির মাঝখানের পাটাতন ও রেলিং ভেঙে ক্যানেলে পড়ে যায়। এরপর থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থী খালে পড়ে যাওয়ার ভয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

দূর্গারাম আবাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়াজী বলেন, মোটরসাইকেল বা বাইসাইকেল নিয়েও ব্রীজ পার হওয়া যায় না। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার ঘুরে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। ফলে ওপারের অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাজল কান্তি রায় জানান, ব্রীজটি অত্যন্ত পুরোনো হলেও কখনো বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে আবাসন প্রকল্পের দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার হলেও ব্রীজ ভেঙে যাওয়ায় মানুষকে ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ি ওই ব্রীজ দিয়ে কখনো যেতে পারেনি।

এ বিষয়ে গতকাল সোমবার রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. পারভেজ মাহমুদ জানান, দূর্গারাম ক্যানেলের ওপর নির্মিত ব্রীজটি বহু পুরোনো। এটি আমাদের আওতায়। উপজেলায় এ ধরনের আরও ১২-১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ রয়েছে। এগুলো সংস্কারের জন্য রংপুর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত একটি ব্রীজের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, দূর্গারাম ব্রীজটি নতুন করে নির্মাণ করতে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং নতুন বাজেটে বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
এলাকাবাসীর দাবি করেছেন দ্রুত নতুন ব্রীজ নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )