শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের হয়।
র্যালিটি বালারহাট বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রথম দফার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি পশ্চিম ফুলমতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে গিয়ে দ্বিতীয় দফার মানববন্ধন করে। পরে সীমান্তবর্তী গোরকমন্ডল বিডিআর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তৃতীয় দফার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সেখান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে চরগোরকমন্ডল আনন্দবাজারে স্থানীয়দের নিয়ে চতুর্থ দফার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ নাওডাঙ্গা জমিদারবাড়ি ও নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বকুলতলা বাজারে নাওডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পঞ্চম দফার র্যালি, মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ প্রভাষক অলিউর রহমান নয়নের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর সামচুল হুদা বাবুল মাস্টার, পশ্চিম ফুলমতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান, ফুলবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোর্শেদ, নাওডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজাদা খন্দকার, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বাবু এবং মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, সোহেল হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকার, আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন, ওবাইদুল হকসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে মাদক প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক মুসাব্বের আলী মুসা বলেন, “কয়েক দিন আগে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও একটি অংশ মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বহিরাগত মাদকসেবনকারী এ এলাকায় আসছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদকবিরোধী কর্মসূচি শুরু হলো এবং এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।
তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।