


নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রচারণা ছাড়াই অনলাইনে কৃষকদের কাছ থেকে গ্রহন করেছে ধান বিক্রির আবেদন। সরকার নির্ধারিত তারিখের ১২ দিন আগে লাটারির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে সুবিধাভোগী কৃষকের তালিকা।
ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সঙ্গে আতাঁত করে খাদ্য গুদামে চলছে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম। এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা ৩৬ টাকা দরে ধান বিক্রি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা খাদ্য গুদামে ধান ঢুকানো কব্জায় নিয়ে ফায়দা লুটাচ্ছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, বোরো ধান বিক্রির আবেদনের জন্য (১১থেকে ২০মে) মাত্র ১০ দিনের সময় দেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এসময়ে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করেন। পরে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে ৫জুন পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ালেও তিনি সরকারি আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান।
ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে ২৪মে লটারী মাধ্যমে সুবিধাভোগী কৃষকের তালিকা প্রকাশ করেন। চলতি মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে উপজেলার ৪শ’জন কৃষকের কাছ থেকে ১২শ’মে:ট: ধান ক্রয় করবে সরকার। কিন্তু বাজার দরের চেয়ে প্রতি কেজি ধান ১০হতে ১২টাকা বেশী হওয়ায় প্রচারণা না করতে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আঁতাত করেন ব্যবসায়ীরা।
স্বল্প সময় ও প্রচারণার অভাবে উপজেলার ৫৩ হাজার ৮৬৬ জন কৃষকের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৭৪৫ জনের ধান বিক্রির আবেদন জমা হয়।
বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান ও বড় ধরণের কৃষক ফজলার রহমান, পুটিমারী ইউপি চেয়ারম্যান ও বড় ধরণের কৃষক আবু সায়েম লিটন ও নিতাই ইউপি চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবু জানান, সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহে হ্যান্ডবিল/ লিফলেট বিতরণ বা মাইকিং করা শুনি নাই, কেউ বলেওনি। এবারে বাজারে ধানের দাম কম, সরকারি রেট বেশী। তাই খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে খাদ্য গুদামে ধান ঢুকাচ্ছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা।
গত বৃহস্পতিবার (১৮জুন) খাদ্য গুদামে বোরো ধান বিক্রিকারী সদর ইউনিয়নের কেশবা মাছুয়াপাড়া গ্রামের তছলিম উদ্দিন ওরফে রাখাল বলেন, আমি বৈশাখী হোটেলে কাজ করি। আবাদি জমি না থাকায় ধান চাষ করি নাই। ধান ক্রয়ের মাইকিং শুনি নাই, আবেদনও করি নাই। কিন্তু ৩টন করে ধান বিক্রির তালিকায় আমার নাম আছে। এজন্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী) আমাকে খাদ্য গুদামে নিয়ে গিয়ে ৮০০ টাকা দিছে। পরদিন রুপালী ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে চেকের পাতায় স্বাক্ষর নিয়ে ৩০০ টাকা দিছে।
এছাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃক সরবরাহকৃত চলতি মৌসুমে খাদ্যগুদামে বোরো ধান বিক্রি করেছেন এমন সুবিধাভোগী কৃষকের তালিকায় দেওয়া মুঠোফোনে পুটিমারী ইউনিয়নের তাজমিনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেন কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ এলাকার জহির নামে এক ব্যক্তি। শেফালী রাণীর মুঠোফোন রিসিভ করেন তারাগঞ্জ উপজেলার বাড়াতি বাজার এলাকার আশরাফুল নামে এক ব্যক্তি। তাদের মোবাইল নম্বর লটারীতে ব্যবহার করে কারা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেছেন এ বিষয় তারা কিছুই জানেন না।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ইকবাল হোসেন জানান, ৪শ’জনের মধ্যে ১৫০জন কৃষকের ৩টন করে ধান ক্রয় করা হয়েছে। তবে ধান বিক্রয়কারী কৃষকের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা দেওয়া যাবে না।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমান জানান, বোরোধান সংগ্রহে প্রচারণার জন্য একদিনে গোটা উপজেলা মাইকিং করা হয়েছে। ধান বিক্রির আবেদনের শেষ তারিখের ১২ দিন আগে লটারি করে কৃষকের তালিকা প্রকাশ করলেন কেন।
এর উত্তরে তিনি নির্ধারিত তারিখে লটারি করার পর খাদ্য অধিদপ্তর আবেদনের সময় বর্ধিত করার দাবি করলেও একই তারিখে (২৪মে) আবেদনের সময় বর্ধিতের চিঠি ও লটারি করা হয়েছে।