1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইকে একভাবে দেখার সুযোগ নেই : সংসদে ত্রাণমন্ত্রী | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইকে একভাবে দেখার সুযোগ নেই : সংসদে ত্রাণমন্ত্রী

সকালের বাণী ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ২৯ জন দেখেছেন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দুটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে একভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল একটি স্বাধীন দেশ গঠনের জন্য, আর জুলাই মাসে যা হয়েছে তা ছিল একটি স্বৈরাচারবিরোধী স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন। দুটি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব ভিন্ন হলেও সব সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে। তবে কোনো ক্ষেত্রেই যেন কোনো ধরনের বৈষম্য বা অসঙ্গতি তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরি।

তিনি বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে রাজপথে নিহত ও আহতদের অবদানের কথা স্মরণ করে বৈষম্য দূর করার তাগিদ দেন। সম্প্রতি এক শোকার্ত মায়ের তার কাছে আসার স্মৃতি চারণ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ১৭ বছরের লড়াইয়ে মিছিল করা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে ওই মায়ের সন্তান নিহত হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা করা হলেও এই দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ ও পঙ্গু হয়েছেন, তাদের তালিকা কোথায়? তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করতে না পারলে তা হবে চরম এক বৈষম্য। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১৭ বছর ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করে ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ও আহত হয়েছেন, তাদেরও অবিলম্বে গেজেটভুক্ত করা হোক। এই বৈষম্যগুলো দূর করতে পারলেই একটি সঠিক, সুন্দর ও সাম্যের বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আইনের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান আসাদুল হাবিব দুলু। এই লক্ষ্যে আগামী ৪ তারিখ তার নিজ জেলা লালমনিরহাটে পাঁচটি সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ‘আলোকিত লালমনি’ নামের একটি সামাজিক আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এই আন্দোলনে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে এবং মহাসচিব তথা মন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করবেন। দেশের সব সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় এ ধরনের সামাজিক আন্দোলনে সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, যা শুধু আইন সংশোধন করে অতীতে কখনো সম্ভব হয়নি।

বর্তমান সংসদের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একটি নতুন ধারার সূচনা হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলের নেতারা সংসদ বয়কট না করে বাজেট আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সংসদ নেতা এবং বিরোধী দলের নেতার নিয়মিত উপস্থিতি অতীতের কোনো সংসদে দেখা যায়নি।

এই নতুন ও সুন্দর ধারাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে গেলে বিরোধী মতকে প্রাধান্য দিতে হবে, তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে সংকট তৈরি হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী কিছু স্লোগানের ভাষা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৫২, ৭১ কিংবা ৯০-এর আন্দোলনের মতো এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েও সুন্দর সমাজ গঠনে নতুন ও মার্জিত ভাষার আবির্ভাব হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে অত্যন্ত অশোভন ও অশ্লীল স্লোগান শোনা গেছে, যা দুঃখজনক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )