তিনি বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে রাজপথে নিহত ও আহতদের অবদানের কথা স্মরণ করে বৈষম্য দূর করার তাগিদ দেন। সম্প্রতি এক শোকার্ত মায়ের তার কাছে আসার স্মৃতি চারণ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ১৭ বছরের লড়াইয়ে মিছিল করা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে ওই মায়ের সন্তান নিহত হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা করা হলেও এই দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ ও পঙ্গু হয়েছেন, তাদের তালিকা কোথায়? তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করতে না পারলে তা হবে চরম এক বৈষম্য। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১৭ বছর ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করে ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ও আহত হয়েছেন, তাদেরও অবিলম্বে গেজেটভুক্ত করা হোক। এই বৈষম্যগুলো দূর করতে পারলেই একটি সঠিক, সুন্দর ও সাম্যের বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আইনের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান আসাদুল হাবিব দুলু। এই লক্ষ্যে আগামী ৪ তারিখ তার নিজ জেলা লালমনিরহাটে পাঁচটি সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ‘আলোকিত লালমনি’ নামের একটি সামাজিক আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এই আন্দোলনে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে এবং মহাসচিব তথা মন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করবেন। দেশের সব সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় এ ধরনের সামাজিক আন্দোলনে সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, যা শুধু আইন সংশোধন করে অতীতে কখনো সম্ভব হয়নি।
বর্তমান সংসদের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একটি নতুন ধারার সূচনা হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলের নেতারা সংসদ বয়কট না করে বাজেট আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সংসদ নেতা এবং বিরোধী দলের নেতার নিয়মিত উপস্থিতি অতীতের কোনো সংসদে দেখা যায়নি।
এই নতুন ও সুন্দর ধারাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে গেলে বিরোধী মতকে প্রাধান্য দিতে হবে, তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে সংকট তৈরি হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী কিছু স্লোগানের ভাষা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৫২, ৭১ কিংবা ৯০-এর আন্দোলনের মতো এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েও সুন্দর সমাজ গঠনে নতুন ও মার্জিত ভাষার আবির্ভাব হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে অত্যন্ত অশোভন ও অশ্লীল স্লোগান শোনা গেছে, যা দুঃখজনক।





















