


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ–এর কর্মকাণ্ড, সংসদে ভূমিকা এবং মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দলটির সাম্প্রতিক কর্মসূচি ও অবস্থান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
নির্বাচনের পরবর্তী চার মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১১-দলীয় জোটের ব্যানারে জামায়াত বিক্ষোভ, সমাবেশ ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। গত ১৬ মে রাজশাহী বিভাগ থেকে শুরু হওয়া বিভাগীয় সমাবেশ ধারাবাহিকভাবে চলছে, যা আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এরপর ঢাকায় বড় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দলটির সক্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন পর্যন্ত দলটি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এবং একাধিকবার ওয়াকআউটের ঘটনাও ঘটেছে।
একই সঙ্গে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি তুললেও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশ না নেওয়ায় দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে বিশ্লেষকদের মত। তাদের মতে, দাবি জানানো এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে পরস্পরবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়াকেও জটিল করতে পারে।
বিশ্লেষকদের একাংশ জামায়াতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগও তুলে ধরছেন। তাদের দাবি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দলটির ভূমিকা এখনো বিতর্কিত।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা না চাওয়াকে কেন্দ্র করেও আলোচনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান না থাকলে জনমনে আস্থার সংকট থেকে যেতে পারে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দল-সমর্থকদের প্রভাব বৃদ্ধির অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় রাজনীতির পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ—সব মিলিয়ে দলটির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
তাদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় চেতনার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় অতীতের বিতর্ক ভবিষ্যতেও দলটির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে।