


নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউস্ট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিই) বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা সৈয়দপুর মানব বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছেন। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সমন্বয় করার লক্ষ্যে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ওই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা ওই প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন। এ সময় বিশ^বিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
আর পরিদর্শণে আসা শিক্ষার্থীদের মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করেন সৈয়দপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এর টেকনিক্যাল অফিসার খোইরোম কামেশ্বর সিংহ। পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীরা প্ল্যান্টের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সহ-কম্পোস্টিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন। শুকানো মানব বর্জ্যে সঙ্গে গৃহস্থালি জৈব বর্জ্য ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে জৈব সার তৈরির প্রক্রিয়াও তারা প্রত্যক্ষ করেন।
পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীরা মানব বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিশোধন এবং তা থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য জৈব সার উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন। এ ধরনের শিক্ষামূলক পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষে অর্জিত তাত্তিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে প্রকৌশলভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী ধারণা প্রদান করে। বাউস্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে সর্বদা এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম আয়োজনের বিষয়ে সচেষ্ট।
উল্লেখ্য, মানব বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার একটি ব্যবস্থাপনা নির্ভর বর্জ্য শোধনাগার। সৈয়দপুর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে এবং এসকেএস ফাউন্ডেশন ও ওয়াটারএইডের কারিগরি সহযোগিতায় প্ল্যান্টটি পরিচালিত হচ্ছে। প্ল্যান্টটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৬ ঘনমিটার মানব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। পাশাপাশি এখানে বছরে প্রায় ৩৭৯ মেট্রিক টন জৈব কম্পোস্ট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
প্ল্যান্টটিতে পরিবেশবান্ধব সৌর প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে ৬৮ ঘনমিটার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। গত ২০২১ সাল থেকে এটিতে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। আর গত ২০২৩ সাল থেকে এটি পুরোদমে মানব বর্জ্য ও জৈব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে নিরাপদ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য জৈব সার উৎপাদন করছে। একই সঙ্গে এটি সৈয়দপুর শহরের পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।