শনিবার রাতে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক গোলাম রব্বানী রঞ্জু, জেলা যুবদল সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি শামীম মিয়া ও কোলকোন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান বেঞ্জুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এ সময় স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো, নদীর তীর সংরক্ষণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদে তিস্তা নদীর ভাঙনরোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন তাদের নিত্যদিনের আতঙ্ক। ভাঙন শুরু হলেই বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়। দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা জলিল হোসেন বলেন, আমরা প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হচ্ছি। এবারও হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। আপনারা আমাদের কথাগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরবেন এটাই আমাদের আবদার। আগে ভাঙনটা বন্ধ করা দরকার। আরেক বাসিন্দা খোকা মিয়া বলেন, বাড়িঘর ও জমি হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। শুধু ভাঙনের সময় কিছু জিওব্যাগ ফেললে হবে না। স্থায়ীভাবে নদীর তীর রক্ষা করতে হবে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার।উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদসহ উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যার কথা শোনেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন,তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। তারা আমাদের কাছে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন এবং ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, নদীর তীর সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের কথা আমরা সরাসরি শুনেছি। তাদের প্রধান দাবি এখন ভাঙন বন্ধ করা এবং বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা। স্থানীয় মানুষের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে।
এদিকে রাতের বেলায় হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।