সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর সঙ্গে যুক্ত সড়কের একটি অংশ ভেঙে গিয়ে নিচু ও অসম হয়ে আছে। স্থানীয়রা সেখানে মাটি ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। যানবাহন চলার সময় সেই মাটি নড়ে যায়। ফলে সাইকেল ও অটোরিকশার পাশাপাশি পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহনে বাড়তি ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, তিস্তা থেকে বুড়ি তিস্তার ক্যানেলটি পুনঃখননের পর সেতুর নিচের মাটি সরে যেতে থাকে। তাদের অভিযোগ, ক্যানেল খননের সময় সেতুর দুই পাশ থেকেও মাটি কাটা হয়েছিল। পরে পানি ও স্রোত বাড়লে তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন দেখা দেয়। তবে ক্যানেলের সঙ্গে সেতুর ক্ষতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা কারিগরি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম (১২) বলে, ‘আমি প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে মাদ্রাসায় যাই। সেতু পার হওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। মনে হয়, কখন যেন ভেঙে যায়।’
কুটিপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমান (৪০) বলেন, ‘একটা সাইকেল গেলেই সেতু কেঁপে ওঠে। তাই সাইকেল নিয়ে হেঁটেই পার হই।’
নাজিমখান ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লালমিয়া সরকার বলেন, ‘সেতুটির কারণে এলাকার মানুষের যাতায়াতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় মালামাল আনা-নেওয়াতেও সমস্যা হচ্ছে।’
ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক পাটোয়ারী নয়া বলেন, ‘আমি বিষয়টি এলজিইডিকে জানিয়েছিলাম। তারা এসে সেতুটি দেখে গিয়েছিল। বর্তমানে বিষয়টি কোন অবস্থায় আছে। তা আমার জানা নেই।’
রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী এজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে কয়েকদিন আগে যোগদান করেছি। সম্ভবত সেতুটির সার্ভে হয়েছে এবং সয়েল টেস্টও করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি কোন অবস্থায় আছে, তা খোঁজ নিয়ে জানতে হবে।’