1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা নারী!  | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা নারী! 

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৩ জন দেখেছেন
প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বরিশালের ২৬ বছর বয়সী এক নারী।
তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর ব্যবসার কথা বলে স্বামী তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিলেও পরে বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
স্বামীর স্বীকৃতি, অনাগত সন্তানের অধিকার ও নিজের নিরাপত্তার দাবিতে এখন তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অভিযোগকারী আর্নি আক্তার অনামিকা (২৬) বরিশাল নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ভাসানি সড়কের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম রফিক মির্জা।
অভিযুক্ত রাসেল মিয়া (২৬) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোলাখানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
অনামিকার অভিযোগ, ঢাকায় রাসেল মিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রায় দুই মাস তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে রাসেল তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে একজন হুজুরের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, বিয়ের পর রাসেল ব্যবসার কাজে প্রায় আট মাস মিসরে অবস্থান করেন। প্রায় ১০ মাস পর দেশে ফিরে ঢাকায় কিছুদিন তাঁর সঙ্গে থাকার পর গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফোন করে তাঁকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসলে। রাসেল তার নিজের বাড়িতে না তুলে ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকায় রাসেলের মামার বাড়িতে তাঁকে রাখা হয়। সেখানে ১০ দিন থাকার পর তাঁকে রাসেল মিয়া নিজ বাড়িতে তার স্ত্রীকে নেওয়া হয়।
অনামিকা আরও অভিযোগ করেন, চার মাস থাকার পরেও হঠাৎ ব্যবসায় লোকসান হয়েছে জানিয়ে রাসেল তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।
বিয়ে নিবন্ধন করে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি বাবার জমি ও নিজের গহনা বিক্রি করে ওই টাকা দেন। টাকা দেওয়ার পর বিয়ে নিবন্ধনের জন্য চাপ দিলে রাসেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নানা টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ তাঁর।
অনামিকার দাবি, বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিষয়টি স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানানো হলেও তাঁরা তা মেনে নিচ্ছেন না। উল্টো তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে গত ২৫ আগস্ট আদালতে গিয়ে স্বামী রাসেল মিয়া, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি স্ত্রী হিসেবে সামাজিক ও আইনগত স্বীকৃতির পাশাপাশি নিজের ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান।
অনামিকা কান্না জড়িত কন্ঠে হাত জোড় করে বলেন, “আমার সরল-সহজ জীবনটা মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে গেছে।
গত দুই মাস ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমি আমার স্বামীর কাছে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চাই এবং নিজের ও অনাগত সন্তানদের নিরাপত্তা চাই।
তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামে তাঁর নিকট আত্মীয়স্বজন না থাকায় সেখানে তিনি অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। থাকার জায়গা ও চিকিৎসাসেবার সংকটে সরকারি হাসপাতালেই দিন কাটাতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা অসহায় নারী মামলা করার পরেও স্বামীর খোঁজে গত তিন দিন থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অবস্থান করছে।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাসেল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর চন্দ্র রায় জানান, মামলায় মোট পাঁচজন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রাসেল মিয়াসহ বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, অভিযোগকারী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলেও পরীক্ষায় উল্লেখ রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )