


দুই মাসের প্রস্তুতি শেষে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব ওরস শরীফের উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন রংপুরের পীরগঞ্জের জাকের ও ভক্তরা। তাঁদের তৈরি ‘নজরানা বাঁশের ভুর’ ঘিরে উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের শালপাড়া ঘাট এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বুধবার সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিদায়ী মাহফিল।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, আটরশি বিশ্ব ওরস শরীফে অংশ নিতে পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ঘোড়াঘাটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার জাকের ও ভক্তরা প্রায় দুই মাস ধরে বাঁশ দিয়ে ‘নজরানা বাঁশের ভুর’ তৈরির প্রস্তুতি নেন। বিদায়ী মাহফিলে স্থানীয় ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার মানুষ অংশ নেন।
আয়োজকেরা জানান, বিদায়ী মাহফিল শেষে ভক্তরা আটরশি দরবার শরীফের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে পৌঁছাতে তাঁদের প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে। দীর্ঘ এই যাত্রায় ভক্তরা দলবদ্ধভাবে অংশ নেবেন এবং সঙ্গে নিয়ে যাবেন ‘নজরানা বাঁশের ভুর’। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শালপাড়া ঘাট এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা যায়। ভক্তরা দলবদ্ধভাবে মাহফিলে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে আটরশি বিশ্ব ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে এ ধরনের আয়োজন হয়ে আসছে। এতে ভক্তদের মধ্যে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম রনি বলেন, আটরশি বিশ্ব ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভক্তদের নানা আয়োজন থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ওরসকে ঘিরে দূর-দূরান্তের মানুষের যাতায়াত বাড়ায় স্থানীয় এলাকাতেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
মাহফিলের সভাপতি আব্দুর সাত্তার মন্ডল বলেন, বিদায়ী মাহফিলের মধ্য দিয়ে আটরশি বিশ্ব ওরস শরীফে যাওয়ার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আটরশি দরবার শরীফে পৌঁছে বিশ্ব ওরসে অংশ নেওয়ার অপেক্ষা।
বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সেলিম বলেন, আটরশি বিশ্ব ওরস শরীফ উপলক্ষে প্রতিবছরই এলাকায় ভক্তদের বিভিন্ন আয়োজন হয়ে থাকে। এবারও শালপাড়া ঘাটে ‘নজরানা বাঁশের ভুর’ আয়োজন করা হয়েছে। ভক্তরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে তাঁদের আয়োজন সম্পন্ন করছেন।