


রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের টুকুরিয়া বাজারে সরকারি হাটের জায়গা দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে হাটের জায়গা সংকুচিত হয়ে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সরকারি হাটের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, হাটের ইজারাদার মালেক মিয়া ৯৯ বছরের চুক্তিতে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন এবং সরকারি জায়গায় স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণে সুযোগ করে দিচ্ছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর টুকুরিয়া হাট ইজারা নেন স্থানীয় বাসিন্দা মালেক মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, ইজারা নেওয়ার পর থেকেই হাটের বিভিন্ন স্থানে পাকা স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রায় ৩০ জন ব্যবসায়ী এসব দোকানঘর নির্মাণের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, হাটের নির্ধারিত জায়গায় একের পর এক স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কারণে হাটের খোলা জায়গা কমে যাচ্ছে। এতে হাটে পণ্য নিয়ে আসা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের চলাচল এবং বেচাকেনায় ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সরকারি হাটের জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
এক বছরের জন্য ইজারা নেওয়া সরকারি হাট-বাজার কোনো ইজারাদার কর্তৃক ব্যবসায়ীদের কাছে ৯৯ বছরের জন্য সাব-লিজ বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি দেওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইন পরিপন্থী। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এটি একটি বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা এবং জালিয়াতিমূলক অপরাধ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন বলেন, সরকারি হাটের জায়গা দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে হাট পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই হাটের জায়গা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগে স্থানীয় আবুল কালাম, শাকিল মিয়া, কামরুজ্জামান, মসফিকুর ও জহুরুলসহ প্রায় ৩০ জন স্থানীয় বাসিন্দার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি হাটের জায়গায় দোকান নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যবসায়ী আবুল কালাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, তিনি যে জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করছেন, সেটিতে তিনি এক যুগেরও বেশী সময় ধরে দোকান করে আসছিলেন, নতুন ইজারাদার মালেক তাকে স্থায়ী বন্দোবস্ত করার জন্য ঘর নির্মানের কাজ করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ইজারাদার সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে স্থায়ী পজিশন বা ৯৯ বছরের দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়ার নামে অবৈধ ভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে ইজারাদারদের কেবল এক বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
টুকুরিয়া হাটের ইজারাদার মালেক মিয়া বলেন, তাঁর ইজারার মেয়াদ এক বছর। পূর্বের ব্যবসায়ীরা স্থায়ী বন্দোবস্ত করার জন্য , তহশিলদার ও সার্ভেয়ার জায়গা পরিদর্শন করেছেন। হাটের জায়গায় মার্কেট নির্মানের জন্য নকশা অনুমোদনের অপেক্ষায়। প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহীল আল বাকীউল বারী বলেন, টুকুরিয়া হাটের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণের বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি সরেজমিন তদন্ত করা হবে। তদন্তে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।