


আমদানিকৃত ফলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক কর কমানো এবং ফলকে বিলাসী পণ্যের তালিকা থেকে বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) নীলফামারীর সৈয়দপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সৈয়দপুর ফল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ওই কর্মসূচি মানববন্ধন করা হয়।শহরের পাঁচমাথা মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত মানববন্ধনে সৈয়দপুর শহরের বিপুল সংখ্যক পাইকারী ও খুচরা ফল ব্যবসায়ীরাঅংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস্ ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সৈয়দপুর পাইকারি ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বিক্রমপুর ফল ভান্ডারের মালিক মো. শাহ আলম, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সৈয়দপুর পাইকারি ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারের মালিক আলহাজ্ব বাদশা মিয়া, ব্যবসায়ী জানে আলম, জিকরুল হোসেন জয় প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, তাজা ফলমূল অন্যান্য খাদ্যের মতোই পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিদিন একজন মানুষকে কমপক্ষে ১০০-১৫০ গ্রাম ফল খাওয়া দরকার। আর ফল শিশু ও রোগীদের অতি প্রয়োজনীয় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য। আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় ৩৫-৪০% ফল উৎপাদিত হয়।
চাহিদার বাকি ৬০/৬৫ ভাগ ফল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আমদানি করা ফলমূলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। তারা বলেন, ফলের ওপর শুল্ক কর প্রত্যাহার না হলে ফলের মূল্য মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পাবে। ফলে অনেকের মুখে কোন ফলই যাবে না। আসন্ন রমজান মাসে এ অবস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এ ব্যবসার সঙ্গে সারাদেশে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ফল আমদানির মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এর সাথে জড়িত লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। তাজা ফলমূলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে মূল্যায়ন করে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বর্ধিত সম্পূরক শুল্ক কর ১৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি করার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
তারা বলেন, তাজা ফলমূলকে পৃথিবীর কোন দেশে বিলাসী পণ্য হিসেবে মূল্যায়ন করা হয় না। অথচ আমাদের দেশে হয়েছে উল্টো। তাই মানববন্ধন থেকে বক্তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে বর্ধিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান।
অন্যথায় আগামী ৪ ফেব্রুয়ারী থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশের সকল স্থল ও নদীবন্দর হতে আমদানি করা তাজা ফল খালাস বন্ধ থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।