


রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের মনিরাম বানিয়াপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত টাকায় ক্রয় করা জমিতে দীর্ঘ সাতাশ বছর ধরে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করলেও জমি সংক্রান্ত চলমান মামলা তাদের জীবনের সুখকে অসুখে পরিণত করেছে । আর সেই মামলায় যেন ঘি ঢেলেছে আলমবিদিতর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মুকুল মিয়ার দেয়া মিথ্যা প্রতিবেদন। নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে ন্যায় বিচার প্রার্থীদের মধ্যে।
রংপুর কোর্টে চলমান ১৫০৬/২৪ এম আর মামলার সুষ্ঠু বিচারের তাগিদে নালিশি জমির বাস্তবতা জানতেই ২৩/০২/২৫ ইং তারিখে গঙ্গাচড়া উপজেলা ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য নোটিশ প্রদান করেন। তহশিলদার মুকুল মিয়া বিবাদীদের কোন প্রকার নোটিশ না করেই বাদী পক্ষের স্বার্থে দীর্ঘ সাতাশ বছর ধরে বসবাসকরাীদের বসত ভিটা ঘরবাড়ি বহাল তবিয়তে থাকা সত্ত্বেও ফাঁকা জায়গা ও বাদীর দখলভুক্ত উল্লেখ করে ১৮/০৩/২৫ ইং তারিখে বিবাদী আলী হোসেন গং এর বিপক্ষে বাদী মায়ালি বেগমের স্বার্থে পক্ষীয় প্রতিবেদন পেশ করেছেন।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী শহিবার মিয়া বলেন, আমি ও আমার সালা মার্জান এই জমি কিনে সাতাশ বছর ধরে বাড়ি করে আছি। এই বাড়িতে আমার মেয়ের জন্ম, সেই মেয়ের এখন দু’টি বাচ্চা। আমাদের জমির রেকর্ড ও দলিল থাকা সত্ত্বেও তহশিলদার কীভাবে ফাঁকা জমি উল্লেখ করে প্রতিবেদন কোর্টে পাঠাল এই মিথ্যা প্রতিবেদন প্রদানকারী তহশিলদারের সুষ্ঠু বিচার চাই।
অপর ভুক্তভোগী নজিফা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর,অনেক কষ্টে এই জমি কিনেছি। জমির দলিল ও রেকর্ড থাকার পরেও কেন আমাদের উপর এই অত্যাচার? মিথ্যা মামলা দিয়ে বছরের পর বছর কেন আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে? আমি সকলের কাছে এই হয়রানি ও মিথ্যা মামলার ন্যায় বিচার চাই।
এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ প্রতিবেশী আব্দুল লতিফ বলেন, আমি এই এলাকার সব কিছুই জানি। ছেলে থেকে এখানেই বুড়ো হয়ে গেলাম। এই গরিব মানুষগুলো জমি কিনে সাতাশ বছর এখানে বাড়ি করে আছে, শহিবার, মফিজার, বাচ্চা মিয়া, মার্জান, আলী হোসেন, শফিকুলসহ সবাই এই জমি ইসলাম উদ্দিনের কাছ থেকে কিনেছে।কেন মিথ্যা মামলায় আসামি করে এই নীড়িহ গরিব মানুষগুলোকে হয়রানি করা হচ্ছে – এর সঠিক বিচার হওয়া দরকার। আর তহশিলদার যেহেতু এখানে না এসে অফিসে বসে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে আমি তারও শাস্তি চাই।
একই বিষয়ে প্রতিবেশী দোকানদার শহিদার রহমান বলেন, এই জমিতে বাড়ি করে থেকে আমাদের সামনেই সবাই বুড়ো হয়ে গেল,তাদের বাড়িঘর থাকা সত্ত্বেও, তহশিলদার কীভাবে ফাঁকা জমি দেখিয়ে মায়ালির পক্ষে প্রতিবেদন দিল সেই তহসিলদারেরও শাস্তি হওয়া দরকার।
দলিল দাতা ইসলাম উদ্দীনের ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন,আমার বাবার সম্মতিতেই তাদের ( ক্রেতাদের) নামে সর্বশেষ রেকর্ড হয়েছে । পরবর্তীতে ২০০৪ সালে রেজিস্ট্রি দলিল করে দিয়েছে। শুধু জমি ক্রেতাদেরকেই নয়, বাদী মায়ালি বেগম আমাকেও মিথ্যা মামলার আসামি করে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে।
পেশকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মুকুল মিয়া বলেন,যখন আমার কাছে কোন তদন্ত আসে, তখন যে পক্ষ আমার সাথে যোগাযোগ করেন,আমি তাদের বয়ান মতো প্রতিবেদন পেশ করি। মায়ালি বেগম আমার সাথে যোগাযোগ করেছে আমি সেই অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছি। বিবাদী পক্ষকে কোন নোটিশ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দায়সারাভাবে বলেন, আমি কোন নোটিশ করি নাই, যদি প্রতিবেদনে ভুল হয়ে থাকে বিবাদী পক্ষ চাইলে কোর্টের নির্দেশে আমি সংশোধন করে দেব।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌসে উর্মি বলেন, আলমবিদিতর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার পেশকৃত তদন্ত প্রতিবেদন মিথ্যা প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আইনি প্রতিবেদন পেশ করে, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
প্রায় সাতাশ বছর ধরে যারা এই জমিতে বসবাস করছেন , তারা এখন ন্যায় বিচার চান। দলিল থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন—এটাই কি ন্যায় বিচার?
প্রশাসন ন্যায়বিচারে ভূমিকা রাখবে—এই আশাতেই বুক বেধেছেন মনিরাম বানিয়াপাড়ার ন্যায় বিচার প্রার্থী হতাশ পরিবারগুলো , যাদের রয়েছে দলিল দস্তাবেজ—কিন্তু হয়রানিমূলক মামলা যাদের কলার কাটা,জীবনের গল্পকে করেছে বিষাদময় ,ন্যায় বিচারের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক আর তহশিলদার মুকুল মিয়া ব্যক্তি স্বার্থে বিচার ব্যবস্থাকে শুধু কালো চশমাই পারননি, বদলে দিয়েছেন বাস্তবতা, ভুক্তভোগীদের জীবনের গল্প, বিচার কার্যে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার অপরাধে তারও শাস্তি হোক – এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।