1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫
  • ২৫০ জন দেখেছেন

নীলফামারীর সৈয়দপুরের কুমারগাড়ী দাখিল মাদ্রাসার চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ গত পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। যদিও এটি দেড় বছরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নানা অজুহাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিন দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ালেও কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে শ্রেণি কক্ষের সংকটে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করা হচ্ছে মাদ্রাসার খোলা মাঠে। কবে নাগাদ এ কাজ শেষ হবে তাও সঠিকভাবে বলতে পারছে না কেউই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৯৯৬ সালে সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় কুমারগাড়ী দাখিল মাদ্রাসাটি। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় তিন শত জন ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে রয়েছেন ১৩ জন শিক্ষক – শিক্ষিকা। আর কর্মচারী রয়েছেন তিন জন। যদিও প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্ত হয়নি অদ্যাবধি। তারপরও কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিরলসভাবে পাঠদান দিয়ে চলেছেন।
নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, কুমারগাড়ী দাখিল মাদ্রারাসার চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয়। গেল ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে নির্বাচিত বেসরকারি মাদরাসা সমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এর চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণে জন্য দরপত্র মূল্য ছিল দুই কোটি ৯৫ লাখ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পান দিনাজপুর জেল শেখ মোহাম্মদ শাহ আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ এন্ড জিন্নাত আলী জিন্নাহ (জেভি)। গত ২০১৯ সালের জুন মাসে চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আর গেল ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। সে সময় মাদ্রারাসার পুরাতন জরাজীর্ণ টিনশেড ছয়টি শ্রেণি কক্ষ ভেঙ্গে সেখানে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এরপর নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ২০২১ সাল থেকে তিন বছর কাজ বন্ধ রাখে ওই ঠিকাদার। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে পুনরায় কাজ শুরু করলেও ৩ মাসের মাথায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ১৮ মাসের নির্মাণ কাজ ৬০ মাসেও শেষ হয়নি। ভবনের ২৫ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই চুক্তি মূল্যের ৮০ শতাংশ টাকার বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে খেলার মাঠেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। নির্মাণাধীন ভবনের দুই পাশে শিডিউল করে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, নির্মাণাধীন ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় সেখানে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে।
গতকাল রবিবার (২৫ মে) সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চারতলা ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় খোলা আকাশের নিচে খেলার মাঠে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদানপুরাতন টিনশেড যে ভবনটি রয়েছে তাও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। চালার টিনগুলো ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টি এলে সেখানে ক্লাস নেওয়া অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে।
দশম শ্রেণির ছাত্রী লাবনী আক্তার, নবম শ্রেণির ছাত্রী মনি আক্তার ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আমির হামজা জানায়, তারা এই মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে দেখছে নির্মাণাধীন চারতলা ওই ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে চরম কষ্টে তাদের পড়াশোনা চলছে। বেশিরভাগ সময় তাদের খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হয়। শীত, ঝড়-বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ সময় তাদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হয়। তারা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, এই মাদ্রাসার পড়া অবস্থায় মনে হয় না তাদের এ নতুন ভবনে ক্লাস করার সুযোগ পাবে।
মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, আমিনুল ইসলাম ও রিনা আক্তার বলেন, আমরা যেভাবে পাঠদান অব্যাহত রেখেছি, তা একেবারেই অমানবিক। শ্রেণি কক্ষের অভাবে জরাজীর্ণ পুরাতন ভবনের এক রুমে আলাদা দুটি শ্রেণির শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে বসিয়ে ক্লাস নেওয়া ছাড়াও খোলা আকাশের নিচে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। তাছাড়াও জরাজীর্ণ পুরাতন টিনের চালার ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে।
কুমারগাড়ী দাখিল মাদ্রাসা সুপার মোছা. ফেরদৌসী বাণু বলেন, বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তারা নির্মাণ কাজ শেষ করছে না। তা ছাড়া এ ব্যাপারে নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। এরপরও কাজ শেষ করতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সেখানে এলাকার কিছু মাদকসেবীরা মাদকের আড্ডা বসায়। এছাড়াও নানা অসামাজিক কাজ করে।
নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাজেরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত ভবনটির ৭৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বললে তারা চলতি বছরের আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা জানান। কিন্তু এর মধ্যে হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জুনের মধ্যে কাজ শেষ না হলে চুক্তি বাতিল করে অবশিষ্ট কাজের জন্য আবারও দরপত্র দিয়ে কাজটি শেষ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )