


বছর ঘুরে আসছে ঈদুল আযহা। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে কোরবানি ঈদ। ঈদর পশু কাটার সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে ব্যস্ত গাইবান্ধার মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। কেউ পুরাতন দা, ছুরির মরিচা পরিস্কার করতে চুটেছে কামারের কাছে আবার কেউবা ব্যস্ত নতুন সামগ্রী কবনতে বা তৈরি করতে ।তাই এখন টুংটাং শব্দ মুখরিত গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামর পল্লীগুলো। ঈদের পশুকাটার সামগ্রী তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছে কামার শিল্পীরা। বিসিক জানিয়েছেন কামারদের সার্বিক সহযোগিতার করার কথা ৷
সোমবার (২ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদুল আযহাকে ঘিরে পশু কাটার সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাঘাটা, বোনার পাড়া, কচুয়া, উল্ল্য সোনাতালা ভরত খালি সহ আরো বিভিন্ন হাট-বাজারের কর্মকারা। দিন যতই যাচ্ছে, ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা আরো বাড়ছে ৷
কামার শিল্পী শিবু বিশ্বাস সাথে কথা বলে যানা যায় ঈদের দিন গরু, ছাগল, মহিষ, উট কোরবানির পশু জবাই করা হয়। ঈদের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোরবানির পশু জবাই চলে। এসব পশুর গোশত কাটতে ব্যবহৃত বঁটি, ছুরি, দা, চাপাতির মতো ধাতব ধারালো হাতিয়ার অপরিহার্য। যেহেতু কোরবানির পশু কাটা কাটিতে করতে ব্যবহার করা হয় এসব ধারালো অস্ত্রের । তাই এখন এসব তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সাঘাটার দলদলিয়া বাজারের কামার পরিমল বৈরাগী জানায়, সব কিছুর দাম বেশি একটা কৃষান নিতে গেলে ৫০০ টাকা বান হাজার টাকা দিয়ে পাওয়া যায় না। অথচ আমাদের তৈরি পণের দাম নেই ৷ আমরা বাপদাদার ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করি মানুষ এখন আর এসব কষ্টের কাজ করতেই চায় না।
উল্ল্য সোনাতলা শ্যামল কামার যানায়, আমরা বংশ পরম্পরায় শত বছর ধরে এই পেশায় আছি। ঈদকে সামনে রেখে দা, চাপাতি, বঁটি, ছুরি বানানোর পাশাপাশি পুরনো জিনিস ধার দেওয়া ও মেরামতের কাজও করছি। তবে ভালো মানের কাঁচামাল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক সময় গ্রাহকের চাহিদামতো কাজ করা যাচ্ছে না।
বোনারপাড়া বাজারের কামার বিমল চন্দ্র বিশ্বাস জানায়, এখন বাজারে কয়লাসহ সরঞ্জামের দাম অনেক বেড়েছে। ফলে গত বছরের চেয়ে ধারালো অস্ত্রের দামও এবছর বেশি ৷ বেচা কেনা চলবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) গাইবান্ধার সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস যানায়, কামার শিল্পকে সম্প্রসারণ করতে বিসিক থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কামাদের মাঝে লোন দিয়েছিন আরো সার্বিক সহযোগিতা করা হবে ৷