1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
সৈয়দপুরে তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ছাত্রীনিবাস মেরামতের অভিযোগ | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন

সৈয়দপুরে তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ছাত্রীনিবাস মেরামতের অভিযোগ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫
  • ২১৭ জন দেখেছেন

নীলফামারীর সৈয়দপুরে তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাসটি বেশ কয়েক বছর আগেই ব্যবহারের অনুপযোগী (পরিত্যক্ত) ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ বর্তমান প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শিল্পী আক্তার তাঁর বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের জন্য সরকারি বরাদ্দের ও বিদ্যালয়ের অর্থ থেকে সেটি মেরামত ও সংস্কার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯১৪ সালে স্থাপিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম এ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শহরের চাঁদনগর এলাকায় ২.৮৯ একর জায়গায় ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। আর গত ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ হয়েছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চার শত ২০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসের পশ্চিম দিকে একতলা একটি ছাত্রীনিবাস রয়েছে। এক সময় ওই ছাত্রীনিবাসটিতে ছাত্রীরা থেকে বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছিল। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগেই সেটি পুরাতন হওয়ার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী (পরিত্যক্ত) ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, বর্তমানে তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী আক্তার। তিনি গত বছরের (২০২৪ সাল) ৭ মে থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এর দায়িত্বভার পালন করছেন। এর আগে তিনি গত ২০২৩ সালে ৪ এপ্রিল সহকারী শিক্ষক হিসেবে এখানে যোগদান করেন। তিনি নীলফামারীর ডিমলা একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে আসেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাসভবন থাকলেও সেটি এখন সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত। ফলে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বিদ্যালয়ের পাশে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক তাঁর বসবাসের জন্য নির্ধারিত বাসভবন (বাসা) সত্ত্বেও বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা পরিত্যক্ত ছাত্রীনিবাসটি মেরামত ও সংস্কার করে সেটিতে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সেটি মেরামত ও সংস্কার কাজ চলছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক গোলাম মোস্তাকিমকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই এ প্রতিনিধিকে ছাত্রীনিবাসে নিয়ে যান এবং মেরামত ও সংষ্কার কাজগুলো ঘুরে ঘুরে দেখান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ ইন্টেরিয়র ফলস সেলিং এবং সার্বিক মেরামত কাজের জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। আর বরাদ্দের অর্থ থেকে বিদ্যালয়ের ওই কাজের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক ছাত্রীনিবাসের দুইটি রুমে টাইলস্ করে নেন। এছাড়াও সরকারি কোন রকম অনুমোদন না দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ডের অর্থ উত্তোলন করে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে পরিত্যক্ত ছাত্রীনিবাসে নতুন করে গ্রীলের ও কাঠের দরজা-জানালা, থাই গ্লাস, পানি সরবরাহের মর্টার ও লাইন, বৈদ্যূতিক ওয়্যারিং, রান্না ঘরের সেলফ নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করছেন। যদিও এ ছাত্রীনিবাসের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। সেটির ছাদের প্লাষ্টার খুলে রড বের হয়ে পড়েছে, সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাঁদ চুঁয়ে পড়ে পানি। ছাত্রীনিবাসটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটলও দেখা দিয়েছে। তারপরও সরকারি সব নিয়ম-কানুন ও নিয়মনীতি অমান্য করে ছাত্রীনিবাসটির মেরামত কাজ অব্যাহত রেখেছেন প্রধান শিক্ষক। আর এ কাজে কোন রকম দরপত্র আহবান কিংবা ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শিল্পী আক্তারের সঙ্গে তাঁর অফিস কক্ষে বসে কথা হলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অর্থে তিনি নিজে থাকার জন্য ওই ছাত্রীনিবাসটি মেরামত করছেন। তবে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে ভবনের দুইটি কক্ষে টাইলস করে দেওয়ার কথা অপকটে স্বীকার করেন তিনি। আপনার জন্য বিদ্যালয়ে সামনে বাসভবন রয়েছে; সেটি মেরামত না করে ছাত্রীনিবাস মেরামত করছেন কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সেটির অবস্থান খুবই খারাপ। সেটি বসবাসের উপযুক্ত নয়। তাই ছাত্রীনিবাসটি মেরামত করছেন বলে জানান তিনি। আপনার তো যে কোন সময় বদলির অর্ডার হতে পারে। তাহলে ব্যক্তিগত অর্থে বিদ্যালয়ের ভবন মেরামতের কারণ কি ? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, যত দিন থাকতে পারি। আমি থাকতে না পারলেও আমার পদে তিনি আসবেন তিনি তো থাকতে পারবেন এমন কথা জানান তিনি।
নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাজেরুল ইসলামের সঙ্গে এ প্রতিনিধির কথা হয়। তিনি তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষের ইন্টেরিয়র ফলস সেলিং এবং সার্বিক মেরামত কাজের জন্য বরাদ্দ থেকে প্রতিষ্ঠানের একটি ভবনের দুইটি কক্ষের মেঝে টাইলস্ করে দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।
রংপুর অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (স্কুল) মোছা. রোকসানা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাস মেরামতের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খুব শিগগিরই ওই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যাবো। এছাড়াও নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )