1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
জরাজীর্ণ ঘরে জীবনযুদ্ধ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সুবিধা বঞ্চিত আবাসনের বাসিন্দারা | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

জরাজীর্ণ ঘরে জীবনযুদ্ধ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সুবিধা বঞ্চিত আবাসনের বাসিন্দারা

আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর (রংপুর)
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ২০৩ জন দেখেছেন

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বৃষ্টি হলেই পলিথিন মুড়িয়ে রাত পার করেন এখানকার বাসিন্দারা। ২০০২ সালে বিএনপি সরকার আবাসনের ঘরগুলো নির্মাণ করে সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করেন। তারপর দীর্ঘ ২৩ বছরে আর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। এরফলে ভাঙাচোরা ঘরে কোন রকমে দিনযাপন করছেন এখানকার মানুষজন। স্থানীয়দের মতে বিএনপি সরকার ঘরগুলো নির্মাণ করায় বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ঘরগুলো সংস্কারের ছোঁয়া পায়নি। ফলে আবাসনের বাসিন্দারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের বলদীপুকুর আবাসন এলাকায় ৩৮ টি ব্যারাকে ৩৮০ টি পরিবারের আবাসনের ঘর রয়েছে। ঘরগুলোতে বসবাস করেন, দিনমজুর, লেবার, অটোরিকশা চালক, ভ্যানচালক, কৃষিমজুর, আদিবাসী ও জেলে। ২০০২ সালে আবাসন প্রকল্পের আওতায় রানীপুকুর ইউনিয়নের বলদীপুকুর গড় এলাকায় টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকে আবাসনের ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়। বর্তমানে এসব আবাসনের ঘরের অবস্থা খুবই নাজুক এবং জরাজীর্ণ হওয়ায় আবাসনের বাসিন্দারা রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নে ৩৮টি আবাসনের ব্যারাক রয়েছে। ব্যারাকের জরাজীর্ণ ঘরগুলোতে ৩৮০ টি পরিবার বসবাস করছেন।

আবাসন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ঘরই জরাজীর্ণ। টিনফুটো, ঘরের ছাউনি ভাঙ্গা, দরজা নেই, টয়লেট ভাঙ্গা, পানির জন্য প্রয়োজনীয় টিউবওয়েল নেই। অনেকেই টিনশেড ঘরগুলোর ওপরে পলিথিন বা ট্রিপল দিয়েছেন। তবুও বৃষ্টি হলে রক্ষা মেলে না এখানকার বাসিন্দাদের। বৃষ্টির পানি ভেতরে পড়ে ভিজে যায় ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস ও আসবাবপত্র। বেশি বৃষ্টি হলেই ঘরগুলো পানিতে টইটুম্বুরও হয়ে যায়।আবাসনের বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, সবাই আইসে আর ছবি তুলি নিয়া যায়, কিন্তুক হামার ঘরের টিন নাগায় না। ঝড়ি আসলে হামার ঘুম হয়না বাবা। কেউ হামার খবর নেয় না।

আরেক বাসিন্দা গোলসেনারা বেগম বলেন, বিএনপির সময় ঘর পাছি, তারপর আর কেউ খবর নেয় নাই। ঘর সরকারের, জমি সরকারের। ধারদেনা করি যে ঘরগুলা ঠিক কর্ম তাও পারি না। হমার পাকে কেউ দেখেনা বাবা। আরেক বয়োবৃদ্ধা করিমন্নেছা বেগম বলেন, বেশি বৃষ্টি হইলে ঘরের কোনায় বা চকির নিচে থাকতে হয়। কখন বৃষ্টি কমবে সেই আশায় পলিথিন মুড়িয়ে বসে থাকি, এটা কোন জীবন। ঘরের বেড়ার টিনগুলোও এখন মরীচিকা ধরে ঝাঁজরা হয়ে গেছে। এখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। এখন ঘরগুলো মেরামতের অবস্থায় নেই। তাই এই আবাসনের ঘরগুলো পুনঃনির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

রানীপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ফরহাদ পুটু বলেন, আবাসনের বাসিন্দারা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বৃষ্টির সময় তাদের দুর্ভোগ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। উপজেলা মাসিক সভায় বিষয়টা আমি কয়েকবার তুলে ধরেছি কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। খুব শীঘ্রই এখানকার ঘর ও রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন। মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে এ প্রকল্পগুলোর কোন কাজ হচ্ছে না। নতুন করে প্রকল্প আসলে এগুলো সংস্কার কিংবা নতুন ঘর নির্মাণ করা সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও’র অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুলতামিস বিল্লাহ বলেন, আবাসনের ঘরগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করার জন্য বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পেলে কাজ করা সম্ভব হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবগত করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )