


এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ছয় গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। সেই রাস্তা কেটে নেয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ৭ জন। মাঠ পর্যায়ে সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোন তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেয়ায় চরম হতাশা বিরাজ করছে ভুক্তভুগীদের মাজে।
ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের চড়কডাঙ্গা বাজারে নতুন মসজিদ সংলগ্ন পাকা রাস্তা থেকে একমাত্র সংযোগ কাঁচা রাস্তা দিয়ে বরাতি শাহপাড়া যাতায়াতের রাস্তা। একই এলাকার বানিয়াপাড়া গ্রামের একাব্বরের ছেলে আলতাফ হোসেন, আমজাদ হোসেন এর বিরুদ্ধে রাস্তা কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হতে তিনদিন ব্যাপী ওই যাতায়াতের রাস্তা কাটেন একাব্বরের ছেলে আলতাফ হোসেন এর আগেও আমজাদ হোসেন ওই রাস্তা কাটেন কয়েকমাস মাস আগে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্তলে যান গ্রাম পুলিশ মশিয়ার রহমান এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি এখানে এসেছি। রাস্তা কাটার বিষয়ে দেখার জন্য, তবে আমার সাথেও খারাপ আচরণ করেন অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন।
ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, ইকরচালী ইউনিয়নের দেয়া বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে এই রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছিল। এতে কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তি কমেছে। তবে বেশ কিছুদিন যাবত ওই রাস্তা নিয়ে ঝামেলা চলছে। এরই মাঝে আমজাদ হোসেন কয়েকমাস আগে ওই রাস্তা কাটেন। ওই সময় রাস্তা কাটার জন্য বাধা প্রদান করলে আমার উপর চড়াও হয়ে ভুমকি দেন আমজাদ ও আলতাফ হোসেন। জীবন গেলেও তারা রাস্তা ছাড় দিবেন না।
বুধবার ভুক্তভুগীসহ অহিদুল ইসলাম জানান, আবাদি ধান পাট নিয়ে বহনের একমাত্র রাস্তা এটি। এলাকার কিছু জমি নিয়ে একটি পুর্ণাঙ্গ রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। সেই রাস্তা দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করত আজ আমরা রাস্তার সাথে থাকা জমির মালিকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। যে রাস্তাটি কেটে নেওয়া হয়েছে এ এলাকাজুড়ে কৃষি জমি ও বসত বাড়ি আছে। উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা।
ইকরচালী ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস উদ্দিন বলেন, আমাকে ইউএনও স্যার ফোন করেছিল রাস্তা কেটে নেয়ার ব্যপারে। পরে চৌকিদার মশিয়ারকে পাঠিয়ে ছিলাম। মানুষের চলাচলের রাস্থা বন্ধের পক্ষে আমি নই, সঠিক বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবলে রানা জানান, ওই ঘটনায় ভুক্তভুগীদের কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।