


রংপুরে ভোজাল গুড় কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২৪ মেট্রিক টন গুড় ও তিন মেট্রিক টন পচা মিস্টি ধ্বংস এবং মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। ধ্বংস করা ভেজাল গুড় ও পচা মিস্টির দাম ৫৪ লাখ টাকার ওপরে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর দর্শনা সূত্রাপুর এলাকার বাবা মায়ের দোয়া গুড় কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম, বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা রুনায়েত আমিন রেজা, জেলা স্বাস্থ্য স্যানিটারি অফিসার মাহবুবার রহমান, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা লোকমান হোসেন। তাদেরকে সহযোগিতা করেন মেট্রোপলিটন পুলিশ।
অভিযানের সময় ৬০ কেজি ওজনের ৪০৯ টি টিন ভর্তি ২৪ হাজার ৫৪০ কেজি ভেজাল গুড় এবং ৭০ কেজি ওজনের ৪০ টি ড্রামে ২ হাজার ৮০০ কেজি পচা মিস্টি এবং বিপুল পরিমান ক্ষতিকারক রাসায়নিক, পচা চিটাগুড়, কারখানায় ব্যবহৃত রং এবং ভেজাল চিনিসহ দিয়ে হাতেনাতে গুড় উৎপাদন কার্যক্রম ধরে ফেলেন।
পরে কারাখানাটি সিলগালা করে মালামালগুলো ধ্বংস করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় নিরাপদ খাদ্যা নিরাপত্তা আইনে কারখানার মালিক নুর মোহাম্মদকে ২ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ডাদেশ দেন।
পরে মালিক নুর মোহাম্মদ ২ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন। কারখানার মালিক নুর মোহাম্মদ জানান, তিনি ৮ মাস থেকে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির চেস্টা করছেন। সারাদেশেই ভেজাল চলছে। আমিও একটু ভেজাল দিয়েছি।
পচা মিস্টি, ভেজাল চিনি এবং ক্যামিকেল ও ফ্লেভার দিয়ে গুড় তৈরি করে বাজারজাত করছি। কারাখানার কর্মচারি আরিফ জানান, যেহেতু এখানে পচা মালামাল দিয়ে গুড় বানানো হয়। সেহেতু কারখানার কোন শ্রমিক আমরা কখনই এই গুড় খাই না।
রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কারখানায় অভিযান চালাই। এবং হাতেনাতে ভেজাল গুড় উৎপাদনের সামগ্রী উদ্ধার করে ধ্বংস করেছি। এসব গুড় খেয়ে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। মালিক দীর্ঘদিন থেকে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এখানে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছিল।