


রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে জমির খাজনা কমিয়ে দেওয়াসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রবিবার অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্কন পাল। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বর্তমানে উপজেলার মীরবাগ কুর্শা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিবু মৌজার জে.এল. নং ৬০, আর.এস. খতিয়ান নং ৭০৫ এর দাগ ৭০৮৮ এর শ্রেণি ‘বাড়ি’। উক্ত জমির ভূমি উন্নয়ন কর সমন্বয় করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সমন্বয় বাবদ ৫,০০০ টাকা দাবি করেন। পরে ভুক্তভোগী ৩,০০০ টাকা প্রদান করলে তিনি মাত্র ১,০৬১ টাকার খাজনার রশিদ দেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “জমির খারিজ, নামজারি, খাজনা প্রদান কিংবা রেকর্ড সংশোধন—যে কাজই হোক, টাকা ছাড়া এই অফিসে কোনো ফাইল এগোয় না। ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন ঘুস বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সেবা পেতে হলে সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে ঘুস দিতে হয়, তার অফিসে রয়েছে দালালচক্র, যারা জোরপূর্বক টাকা আদায় করে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, কুর্শা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মৌখিকভাবে এক রকম খাজনা নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু রসিদে উল্লেখ থাকে অল্প পরিমাণ টাকা। বাকি টাকা ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে নিচ্ছেন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।ভুক্তভোগী কবির হোসেন জানান, “ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আমার কাছে খাজনা বাবদ ৫,০০০ টাকা দাবি করেন। আমি ৩,০০০ টাকা দেওয়ার পর তিনি আমাকে ১,০৬১ টাকার রশিদ দেন। বাকি টাকার কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলুন।” অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্কন পাল বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।