


রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে আর হলুদ চাঁদরে ছেয়ে গেছে উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ। দিগন্তজুড়ে চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের সরিষা ক্ষেত যেন প্রকৃতির সব ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছে। সরিষা ফুলে ফুলে প্রজাপতির নৃত্য আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে মধু সংগ্রহের অপরূপ দৃশ্য দেখে পথিক থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে। হেমন্তের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা আর শীতের কুয়াশা জড়ানো সকাল-বিকেলে সরিষা ক্ষেতের আইলে দাঁড়িয়ে বুকভরা নিঃশ্বাস নিতে কার না মন চায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কাউনিয়া উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে মোট ১২৬৮ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলে সরিষা চাষের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। কিছুদিন আগেও কাউনিয়ায় তেমন সরিষা ক্ষেত চোখে পড়ত না। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তায় আবারও সরিষা চাষে ফিরছেন কৃষকরা। এছাড়া কৃষি বিভাগের নতুন নতুন স্বল্প মেয়াদি ও উচ্চ ফলনশীল জাত কৃষকের হাতে পৌঁছানোয় সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
এ বছর উপজেলার মাঠে বারি সরিষা-৯, ১৪, ১৫ ও রাই সরিষা জাতের চাষ করা হয়েছে। যেসব দোঁআশ প্রকৃতির জমিতে আলু, গম বা ভুট্টা ভালো হয় না, সেসব জমিতে স্বল্প খরচে সরিষা চাষ করে ভালো লাভ পাচ্ছেন কৃষকরা। সরিষা কাটার পর সহজেই ইরি-বোরো চাষ করা যায় বলেও চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে। হরিশ্বর গ্রামের সরিষা চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে ২-৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতাম। ফলন ভালো না হওয়ায় ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে স্বল্প মেয়াদি উচ্চ ফলনশীল বীজ দিয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় আবার সরিষা চাষ শুরু করেছি।
শহীদবাগ ইউনিয়নের চাষি জাহিদুল ইসলাম জসিম ও রফিকুল ইসলাম, এবং চর গনাই গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বছর সরিষা ক্ষেতে রোগবালাই কম, গাছের বৃদ্ধি ভালো এবং শুঁটির সংখ্যাও বেশি। তারা আশা করছেন এবার বাম্পার ফলন পাবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, চলতি মৌসুমে কাউনিয়ায় সরকারি প্রণোদনার আওতায় প্রায় ৪৮টি প্রদর্শনীসহ কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের সরিষার বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন। এ কারণে এ বছর উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে হলুদ চাঁদরে মোড়া সরিষা ক্ষেত শুধু কৃষকের মুখে হাসিই ফোটাচ্ছে না, বরং হারিয়ে যেতে বসা সরিষা চাষে ফিরিয়ে আনছে নতুন আশার আলো।