


গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পরে সাঘাটা উপজেলায় আইন প্রয়োগ নিয়ে চরম বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। কেবল মাত্র লোক দেখানোর জন্য জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান যেন কেবল খেটে খাওয়া ও দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, অথচ প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রিত বড়ো বড়ো অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চললেও সেখানে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ে না।
গত এক মাসে উপজেলার কাঁকড়া গাড়ি একাধিক অভিযানে কাঁকড়া চালকদের জেল ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রিত নানা অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান অভিযান নেই বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, বালু বহন করা কাঁকড়া চালকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও বালু উত্তোলনের জড়িতরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে । একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটা ও কয়লা কারখানা প্রকাশ্যেই চালু রয়েছে। এসব কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বর্জ্যে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। উপজেলার সাধারণ মানুষ জানান , আইন যেন কেবল খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই প্রয়োগ হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটা, অবৈধ কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অবৈধ ব্যবসা সবার চোখের সামনেই চললেও সেখানে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। কাঁকড়া চালক গোলজার বলেন,পেটের দায়ে গাড়ি চালাই বলেই আমাদের জেল-জরিমানা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালায়, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আইন কি শুধু আমাদের জন্য?
কাঁঠালতলীর বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ইটভাটা ও কয়লা কারখানার ধোঁয়ায় পুরো এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সবাই জানে কারা এসব চালায়, তবু প্রশাসন নীরব। এটা স্পষ্ট বৈষম্য।
স্থানীয় মোকছেদ আলী বলেন, সাঘাটা উপজেলা প্রশাসনের কাছে কি রাঘবোয়ালদের জন্য আলাদা কোনো আইন আছে? নিরীহদের ধরেই কি আইনের শাসন দেখানো হচ্ছে?
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত বলেন,ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইটভাটা ও কয়লা কারখানার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত। এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ এলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবির জানায়,আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলে। আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং বিধি অনুযায়ী নিয়ম মেনেই কাজ করে যাচ্ছি।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের এসব বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল নেই। পুরো উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।