


বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স রুপার দাম ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে সোনার দামও। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রুপার স্পট মূল্য ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ট্রয় আউন্স ১০১ ডলারে। আর সোনার দাম এখন পাঁচ হাজার ডলার ছুঁইছুঁই করছে। নতুন বছরের শুরুতেই সোনা-রুপার এমন দামবৃদ্ধি মূল্যবান ধাতুর বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, খুচরা বিনিয়োগকারী এবং গতি-নির্ভর কেনাকাটার চাপের পাশাপাশি ভৌত বাজারে দীর্ঘদিনের সরবরাহ ঘাটতির কারণেই রুপার দামে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। গহনা, ইলেকট্রনিক্স এবং সৌর প্যানেল তৈরিতে ব্যবহৃত এই মূল্যবান ধাতুটি বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও ব্যাপক চাহিদা পাচ্ছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার কৌশলবিদ মাইকেল উইডমারের মতে, মৌলিকভাবে ন্যায্য রুপার দাম হওয়া উচিত প্রায় ৬০ ডলার। তার কথায়, সৌর প্যানেল উৎপাদনকারীদের চাহিদা সম্ভবত গত বছরেই চূড়ায় পৌঁছেছে এবং অতিরিক্ত দামের কারণে সামগ্রিক শিল্পচাহিদাও চাপের মুখে পড়ছে।
বাজার বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, গত বছরে মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ চাহিদা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। একই সঙ্গে লন্ডনের রুপার বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কনীতিকে ঘিরে উদ্বেগের কারণে মার্কিন বাজারে বিপুল পরিমাণ ধাতু স্থানান্তরিত হয়েছে।
রুপার মোট বার্ষিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ আসে পুনর্ব্যবহার খাত থেকে। দাম রেকর্ড উচ্চতায় থাকায় এই খাতে তৎপরতা বাড়লেও, উচ্চমানের পরিশোধন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে বাজারে দ্রুত সরবরাহ ফেরানো সম্ভব হয়নি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাস জানায়, টানা পাঁচ বছর ধরে কাঠামোগত ঘাটতির পরও মজুত স্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে না, যা ২০২৬ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে।