গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার খোলাবাড়ী চরে হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একটি হত্যা মামলার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিহিংসাবশত তিনি হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীসহ একই এলাকার প্রায় ৫০ জন নিরীহ চরবাসীর বিরুদ্ধে মারপিট ও ভাঙচুরের মামলা করেছেন। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলার ক্লিনিক বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা এ অভিযোগ তুলে ধরে অবিলম্বে প্রতিকার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একাধিক হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। সম্প্রতি তিনি স্থানীয় মোহাম্মদ আলীর বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে ফরহাদ হোসেন বিভিন্ন সময় বাদীকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, মামলা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানো হলে ফরহাদ হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিট ও ভাঙচুরের একটি সাজানো ঘটনা দেখিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের আসামি করেন। এতে হত্যা মামলার বাদী, সাক্ষীসহ প্রায় ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। যার উদ্দেশ্য একটাই, হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শুক্কুর আলী ফিরোজ বলেন, ঘটনার সময় তিনি গাইবান্ধা শহরের এসকেএস হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছিলেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে। তবুও তাঁকে মামলার আসামি করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অন্যায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অত্যন্ত দু:খজনক। হত্যা মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী বলেন, মারপিট ও ভাঙচুরের মামলায় তাঁকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে, অথচ ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। সম্প্রতি তারা আমার বড় ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের পর আমি বাদী হয়ে থানায় মামলা করি। তাঁর দাবি, হত্যা মামলার জেরে তাঁকে ও সাক্ষী সহ ৫০ জন গ্রামবাসীকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। এটি স্পষ্ট প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চরাঞ্চলের নিরীহ মানুষগুলোকে হয়রানি করতেই ফরহাদ হোসেন এই মামলা করা করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও ঈসমাইল হোসেন, কামরুল হাসান, আইয়ুব আলীসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানিমূলক মামলা থেকে রক্ষা করা হোক।