


রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তেলের অভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িও অচল হয়ে পড়ছে। গত সোমবার সকালে নগরীর সড়কে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান তেল ফুরিয়ে বন্ধ হয়ে গেলে সদস্যদের সেটি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। জেলা জুড়ে মোট ৪৬টি নিবন্ধিত পেট্রোল পাম্প থাকলেও সোমবার সকাল থেকে মাত্র ১০টিতে তেল সরবরাহ ছিল।
বাকি পাম্পগুলো ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখে। এতে সচল পাম্পগুলোতে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের জন্য কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। নগরীর গুল গফুর পেট্রোলিয়াম পাম্পে সকালেই চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভিআইপি লাইনে শুধু জরুরি সেবার গাড়ি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য তেল দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে সাধারণ গ্রাহকদেরও তেল দেওয়া হয়েছে।
এতে সাধারণ লাইনে অপেক্ষমানদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তেল নিতে আসা এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, অথচ নিয়ম ভেঙে অন্যদের তেল দেওয়া হচ্ছে। পাম্প মালিক ও প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণেই এ পরিস্থিতি।” এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পুলিশের টহল কার্যক্রমেও। সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক টহল গাড়ি সময়মতো জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলে দায়িত্ব পালনের সময় মাঝপথেই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো বা তেল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় বলেও জানান তারা।