1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
যুদ্ধের প্রভাব, দেশে দরিদ্র বাড়তে পারে ১২ লাখ | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

যুদ্ধের প্রভাব, দেশে দরিদ্র বাড়তে পারে ১২ লাখ

সকালের বাণী ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫১ জন দেখেছেন
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এ বছর বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় কমে যেতে পারে। তারা দারিদ্র্য সীমার ওপরে উঠতে পারবে না, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের এপ্রিল সংস্করণের ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের প্রকাশনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবের কারণে কতজন বাংলাদেশি দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবে না, তার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে কোনো কর্মক্ষম ব্যক্তি দিনে তিন ডলারের কম আয় করলে তাকে দরিদ্র হিসেবে ধরা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে সকালে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ নানা কারণে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে। এ বছর নতুন করে ১৪ লাখ মানুষ গরিব হয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে ধারণা করা হয়েছিল, চলতি বছর ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠবেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে মাত্র ৫ লাখ মানুষ সীমার ওপরে যেতে পারছেন। এর মানে, এ বছর প্রায় ১২ লাখ মানুষ গরিব থেকে যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংক বলেছে, যুদ্ধ না থাকলে ২০২৮ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণগুলো হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমের কম মজুরি, কর্মসংস্থানের ধীর গতি। পাশাপাশি বৈষম্য বাড়ার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে এ বছর দারিদ্র্যের হার মাত্র ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমবে, যেখানে প্রতিবছর গড়ে এক শতাংশের বেশি হারে দারিদ্র্য কমত।

বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর বাংলাদেশ ও ভুটান জ্যঁ পেম বলেন, বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে দারিদ্র্য কমার গতি হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলেন, শোভন কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা প্রয়োজন।

 

জ্যঁ পেম বলেন, পূর্বে শুরু করা সংস্কার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি, যদিও এগুলো বাস্তবায়ন কঠিন। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

প্রতিবেদনটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অন্তত ছয়টি খাতে পড়তে পারে। হিসাবের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়, টাকার অবমূল্যায়নে প্রভাব পড়তে পারে। ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমাতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন। আর্থিক চাপ বাড়তে পারে, যেমন সার ও জ্বালানিতে ভর্তুকি খরচ বৃদ্ধি। বৈষম্য বাড়তে পারে এবং ২০২৬ সালে গিনি সূচক ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )