1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পীরগঞ্জের ট্যাক্স আদায়ের নামে মানুষের ভোগান্তির অভিযোগ | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

পীরগঞ্জের ট্যাক্স আদায়ের নামে মানুষের ভোগান্তির অভিযোগ

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ২৭ জন দেখেছেন

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ ৮ টি ইউনিয়নে সেবার মান বৃদ্ধির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে স্মার্ট হোল্ডিং আইডি কার্ডের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যা বর্তমানে জনভোগান্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার বড় আলমপুর, রায়পুর, চৈত্রকোল, চতরা, কাবিলপুর, রামনাথপুর, কুমেদপুর ও শানেরহাট ইউনিয়নসহ ৮ টি ইউনিয়ন পরিষদকে এ কর্মসুচির আওতায় নেয়া হয়।

এজন্য লিখিতভাবে চুক্তি করা হয় তারাগঞ্জ উপজেলার লিখুন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। চুক্তি সম্পন্নের পর যথা নিয়মে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদে হোল্ডিং ট্যাক্স স্মার্ট আইডি কার্ড সরবরাহের জন্য একজন গ্রাম্য পুলিশকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তার নির্ধারিত কর্মীসহ ইউনিয়ন পরিষদের এই কাজ শুরু করেন। বিপত্তি বাধে তখনই যখন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে ক্রমেই দূরত্ব সৃষ্টি হয় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং চুক্তি সম্পন্নকারী ব্যক্তি লতিফুল ইসলাম লিখন এর সাথে।

আর এই দূরত্ব প্রকাশ্য রুপ নেয় কাবিলপুর ইউনিয়নের পরিষদের সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে চুক্তি সম্পন্নকারী ব্যক্তি লতিফুল ইসলাম লিখনের সহযোগী নারী কর্মীদের শ্লীলতা হানির অভিযোগ এর মাধ্যমে। ঘটনা এক পর্যায়ে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়া হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়কারী লিখন এর নারী কর্মীরা এ অভিযোগ দেন।

ফলে এক সময় ইউপি সচিব সিরাজুল ইসলাম কাবিলপুর ইউনিয়নে কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এর পরপরই সামগ্রীক কার্যক্রম বন্ধ করে লাপাতা হয়ে যায় হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি লতিফুল ইসলাম লিখন। অন্যদিকে ৮ টি ইউনিয়নের কয়েক’শ নাগরিকের অভিযোগ ট্যাক্স আদায়কারীরা তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানিয়েছেন যে এই হোল্ডিং ট্যাক্স স্মার্ট আইডি কার্ডে রূপান্তরিত না করলে ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। ফলে বেকায়দায় পড়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের স্মার্ট কার্ড নেয়ার সিদ্ধান্ত নেনে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো প্রথমে বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদে স্মার্ট হোল্ডিং ট্যাক্স আইডি কার্ডের কার্যক্রম শুরু করা হলেও সেটি আংশিক সম্পন্ন করে অন্য ইউনিয়নে গিয়ে স্মার্ট হোল্ডিং কার্ডের জন্য ট্যাক্স আদায় শুরু করে লতিফুল ইসলাম লিখন।
এ ব্যাপারে বড় আলমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মেহেদী বলেন আমরা সেই সময় টাকা দিয়েছিলাম স্মার্ট হোল্ডিং ট্যাক্স কার্ডের জন্য এবং স্মার্ট কার্ডের জন্য। তারা মোট ৫৫০ টাকা আমার কাছ থেকে নিয়েছে এখন পর্যন্ত আমি কার্ড পাইনি আদৌ কার্ড পাব কিনা জানিনা।

ওই ইউনিয়নের ফকিরা ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা আনজুয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন ৬-৭ মাস হয়ে গেল টাকা জমা দেয়ার পর এখনো কিছুই পেলাম না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন তারা (ট্যাক্স আদায়কারী) বলেছিল এই কার্ড না নিলে ইউনিয়ন পরিষদের কোন সেবা পাওয়া যাবে না। যে কারনে ভয়ে আমরা তাদের দাবিকৃত টাকা দিয়েছিলাম। এরপর ৭-৮ মাস হয়ে গেল এখন পর্যন্ত আমরা এই আইডি কার্ড পাইনি। কবে পাবো তাও জানিনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আর এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন আমি অনেক কষ্ট করে এই আইডি কার্ডের জন্য টাকা দিয়েছিলাম। গ্রাম্য পুলিশ এসে যখন বললেন যে এটা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে। তখন আমি এই কার্ড নেয়ার জন্য টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখনো কার্ড পাইনি। এই কার্ডের কি কি কাজ তাও জানিনা। আর এক ভুক্তভোগী (রাবেয়া বেগম) ছদ্মনাম আমরা খুব গরীব মানুষ দিন আনি-দিন খাই, এই কার্ডের জন্য মানুষের থেকে টেকা চায়া আনছিনু, অনেকদিন হল বাবা এখনও কেমা ওই কার্ড দেওছেনা, মোর বাড়ির মানুষ প্রতিদিনই মোক বকাঝকা করে।

সাংবাদিক দেখতেই আর এক ভুক্তভোগী এগিয়ে এসে বলেন আমার স্মার্ট ট্যাক্স টোকেন আইডি কার্ডে নামের ভুল হয়েছিল আমি সেটি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাম্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আশরাফুল আলমের সাথে যোগাযোগ করায়ং তিনি আবেদন করতে বলেছিলেন। আমার ভোটার আইডি কার্ডসহ আমি আবেদন করেছিলাম। এখন পর্যন্ত সংশোধিত হোল্ডিং ট্যাক্স টোকেন আইডি হাতে পাইনি। এ বিষয়ে বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আশরাফুল আলম বলেন এসেসমেন্ট এর জন্য এই কাজটি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে। কি চুক্তি হয়েছে এটি জানতে চাওয়ায় প্রথমে ক্ষেপে যান ইউপি সচিব আশরাফুল আলম।

পরবর্তীতে বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক (পীরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুর রাজ্জাকের) সঙ্গে কথা বলে চুক্তি পত্রটি দেখাতে সম্মত হন তিনি। যেখানে উল্লেখ আছে এই কাজের দায়িত্ব লতিফুল ইসলাম লিখন কে দিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )