


স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী মাদ্রিদে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। দুর্নীতির একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবারের এই বিক্ষোভে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ‘মার্চ ফর ডিগনিটি’ নামে আয়োজিত এ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একদল বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রী সানচেজের বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যদিও পুরো কর্মসূচি বেশির ভাগ সময় শান্তিপূর্ণ ছিল। স্প্যানিশ টেলিভিশনের প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, মনক্লোয়া প্রাসাদের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কে মুখোশধারী কয়েকজনকে আটক করছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ‘সমাজতান্ত্রিক মাফিয়ার পদত্যাগ চাই’ লেখা ব্যানার বহন করেন। এসময় লাল-হলুদ রঙের অসংখ্য স্প্যানিশ জাতীয় পতাকা দেখা যায়। স্প্যানিশ সিভিল সোসাইটি অ্যাসোসিয়েশন এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে বিরোধী দল পিপলস পার্টি এবং কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টির নেতারাও অংশ নেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার স্পেনের একটি আদালত ঘোষণা দেয় যে সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো ও অর্থপাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগে তদন্ত চলছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানচেজের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাপাতেরো অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সানচেজের স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী সাময়িকভাবে পদত্যাগের কথাও বিবেচনা করেছিলেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে তার পরিবারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কট্টর ডানপন্থীদের চাপে করা হচ্ছে।
বেগোনিয়া গোমেজও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মাসে স্পেনের একজন প্রসিকিউটর তদন্তকারী বিচারককে মামলাটি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। মামলাটি কট্টর ডানপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠী দায়ের করেছিল। আয়োজকদের দাবি, বিক্ষোভে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে মাদ্রিদে স্পেন সরকারের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার।