শনিবার (৮ আগস্ট) তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের তিরনইহাট মৌজায় আদালতের প্রতিনিধিদল উপস্থিত হয়ে জমি পরিমাপ, সীমানা নির্ধারণ ও লাল নিশানা স্থাপনের মাধ্যমে ইসরাইল হোসেন গংদের কাছে জমির দখল হস্তান্তর করেন। এ সময় ঢাকঢোল পিটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিরনইহাট মৌজার সাবেক ৯৯১/৪, হাল ২৬৫ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ১১.৭৫ একর জমির মধ্যে ৪.৮৩ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে ২ একর জমির মালিকানা নিয়ে মো. তফিল হোসেন গংদের সঙ্গে ইসরাইল হোসেন গংদের দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলমান ছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২০ সালে আদালত ইসরাইল হোসেন গংদের ওই জমির বৈধ মালিক হিসেবে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর আদালতের নির্দেশে প্রশাসনের সহযোগিতায় উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রকৃত মালিকদের জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা হলেন— তিরনইহাট ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ইসলাম উদ্দিন ওরফে আব্দুল ইসলামের ছেলে ইসরাইল হোসেন ও আশরাফুল আলম, সদর ইউনিয়নের কালারাম জোত এলাকার মৃত আমিনুর রহমানের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন এবং পঞ্চগড় ঘাটিয়ার পাড়ার আনোয়ারুল হকের স্ত্রী সাধনা সুলতানা।
জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় পঞ্চগড় সিভিল জজ আদালতের জারিকারক গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সার্ভেয়ার মানিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
জমির দখল ফিরে পেয়ে ইসরাইল হোসেন, আব্দুর রশিদ ও ইসরাইল হোসেনের ছেলে আসাদুজ্জামান বলেন,দীর্ঘ ১৬ বছর আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে আজ আমরা আমাদের ২ একর জমি ফিরে পেয়েছি। আদালত, প্রশাসন ও পুলিশসহ যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
সার্ভেয়ার মানিকুজ্জামান বলেন,পঞ্চগড় সিভিল জজ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিরনইহাট মৌজার নির্ধারিত জমির মধ্যে ২ একর জমি ইসরাইল হোসেন গংদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছিল।
সিভিল জজ আদালতের জারিকারক কমল চন্দ্র সেন বলেন,আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনের শাসনের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালতের মাধ্যমে জমির দখল ফিরে পাওয়ায় এলাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।