


অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন তানজিদ। ১৮৮ বল মোকাবিলা করে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। নাথান লায়নের বলে লং অফ দিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তানজিদ। এরপর হেলমেট খুলে সতীর্থদের অভিনন্দন গ্রহণ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
তবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি তানজিদ। এরপরই নাথান লায়নের বলে ১০১ রানে থামতে হয় তাঁকে। লায়নের ভাসানো বলটি লং অফের ওপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তানজিদ। কিন্তু শটটি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
তানজিদের বিদায়ের আগে অবশ্য বাংলাদেশকে বড় সুবিধা এনে দিয়েছেন তিনি। ব্যাকফুটে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে লায়নের একটি বল সীমানাছাড়া করে দলকে দুইশ রানের ঘরে নিয়ে যান। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের রানও পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে লিড নেয় সফরকারীরা।
ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২৩০ রান। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের প্রথম ইনিংসের জবাবে ইতিমধ্যে ৩২ রানের লিড পেয়েছে সফরকারীরা।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৭৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তানজিদ। তাঁর সঙ্গে ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। লাঞ্চে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৮১ রান। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে তখনও ১৭ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
শুক্রবার ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আগের দিন হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দিতে শুরু করেন তানজিদ ও মুমিনুল হক।
দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এই জুটিই বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর পেরিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখে। মুমিনুল অবশ্য সেঞ্চুরির জুটি পূর্ণ করার পরপরই ফিরে যান। ৯৫ বলে ৮টি চারে ৪৯ রান করে থামেন তিনি।
জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের কিছুটা বাইরের ফুলার বল মুমিনুলের ব্যাটের পাশ ছুঁয়ে যায়। পেছনে থাকা অ্যালেক্স ক্যারি গ্লাভসে বলটি জমা করে কোনো ভুল করেননি। দলীয় ১৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর তানজিদের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের ব্যাটে বাংলাদেশের ইনিংস আরও এগিয়ে যায়। তানজিদ ১০২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। শান্তও পরে ৭৪ বলে পঞ্চাশের দেখা পান।
তানজিদের সেঞ্চুরির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট পেল নতুন এক মাইলফলক। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার টেস্টে শতকের দেখা পাননি। দুই টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথম শতকেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন তানজিদ।
অন্যদিকে বল হাতে হাসান মাহমুদের ছয় উইকেট এবং এরপর তানজিদের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি—দুইয়ে মিলে ডারউইন টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতেই। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর আগের সেই স্মৃতি যেন এবার বদলে দেওয়ার পথে বাংলাদেশ।