লাইফস্টাইল

বাবা- ছেলের ঝালমুড়িতে নতুনত্বের স্বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   রংপুর

০৩ মার্চ ২০২৪


| ছবি: 

কখনও আলুর সাথে বুট মিশিয়ে কখনও ডিমের সাথে চানাচুর ঝাকিয়ে তৈরি করছেন স্বাদের ঝালমুড়ি। সরিষা বাটা, কুচি কুচি কাটা মরিচ - পেঁয়াজ মিশিয়ে তৈরি করছেন স্বাদের ঝালমুড়ি। ঝালমুড়ি প্রিয়রা বাপ ছেলেকে ঘিরে মামা, চাচা, ভাই বলে ঘিরে অপেক্ষা করছেন।  কেউ এসেছেন খাওয়ার আগ্রহে কেউ ঠোঙ্গায় ঠোঙ্গায় বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন প্রিয় মানুষের জন্য। করোনাকালে ব্যবসা খোয়া গেলে ঝালমুড়ি বিক্রির পথ বেছে নেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর গ্রামের দুলু মিয়া। অর্থাভাবে ব্যবসার মালামল কিনতে হিমসিম খাচ্ছিলেন। পরে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেন ঘুরে দাড়ানোর আশায়। ঋণের বোঝা বেশি হওয়ায় মাথায় চিন্তার ভাজ পরে। এখন ঝালমুড়ি বিক্রি করেই পরিশোধ  করছেন এনজিওর টাকা।  সময়ের সাথে সাথে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ব্যকুল তিনি। শুরুটা কষ্টের হলেও এখন সফল দুলু মিয়া। এক জায়গায় শুরু করলেও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন।  রংপুরের খামারমোর, সালেকমার্কেট, কামাড়পাড়া বাসস্টান্ড, সর্বশেষ শাপলায় অবস্হান নিয়েছে দুলু মিয়া। বেচাকেনা বেশি হবার আশায় শাপলা চত্তরে কিছুদিন থেকে দোকান দেন তিনি।
ঝালমুড়ি তৈরির মুড়ি, বুট, মসলা, তেল তৈরিতে সহযোগিতা করেন মেহেদী হাসনের মা। তাদের ঘরে তিন সন্তান। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক মেয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ও ছেলে ডিগ্রি পড়ুয়া। বর্তমানে বসবাস করছেন রংপুর নগরীর তাঁতীপাড়ার মহাদেবপুরে। ঝালমুড়ি খাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ায় বাবার দোকানে সহযোগিতা করছেন ছেলে মেহেদী হাসান। মেহেদী কুড়িগ্রামের একটি কলেজে ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি ঝালমুড়ি বিক্রিতে মনোযোগী হয়েছেন ছেলে। সারাদিন বাবা-মায়ের সাথে ব্যবসার মালামাল সংগ্রহ, তেল মসলা মেশাতে সহযোগিতা করেন। ভ্যানগাড়ী চালিয়ে বাবার সাথে বিকেলে শহরে আসেন মেহেদী।
গত শনিবার কথা হয় দুলু মিয়ার সাথে , তিনি বলেন ব্যবসা করতাম অন্য । বিভিন্ন জায়গায় করেছি।এখন সংসার নিয়ে নিয়ে ভালো আছি। আমি একটা গরুর ব্যবসা করতাম। রাইতে একটা পর্যন্ত বিক্রি করি। সেল কম হলে লাভ কম হতো।মান ভালো বলে বেচাকেনা ভলাো।চলাফলা করে খাইতে পারতেছি।এই সময় কেউ খাইতে পারছে না আমি পারছি। এতে শুকরিয়া। এই ব্যবসা দিয়েই আস্তে আস্তে সব ঋণ  পরিশোধ করতেছি।

বাবার সাথে থাকা মেহেদী হাসান বলেন,  আগে ছিল অন্যদিকে এখন এই দিকে। মানসম্মত খাবার  বলে ভালো চলে। বাসার তৈরি খাবার বলে অনেকে খেতে আসে। আব্বুর অনেক চাপ হয় তাই আমি পড়াশোনার পাশাপাশি সহযোগিতা করছি। খাবার জিনিসের মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা বেশি আসছে আমাদের ঝালমুড়ির দোকানে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে থেকে অপেক্ষা করে নিতে হয় ঝালমুড়ি। সন্ধ্যা থেকে রাত ১ টা পর্যন্ত বেচাকেনা। প্রতিদিন বিক্রি হয় দুই  থেকে আড়াই হাজার টাকা। এতে  মাসে বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। রবিউল নামে এক ক্রেতা বলেন, মশলাগুলো খুব ভালো দেয় এবং অন্যান্য দোকানগুলোর থেকে দুলু মিয়ার মুড়ি ভর্তাটা খুব জনপ্রিয়। তাই খাওয়ার পাশাপাশি বাড়িতেও নিয়ে যাই। দামও কম, দুর-দুরান্ত থেকে অনেক মানুষই আসে খেতে। খামাড়মোড় এলাকার রাহুল বলেন, শাপলায় আসলে এখানে ছুটে আসি। নিজে খাই পরিবারের জন্য নিয়ে যাই ফেরার পথে। এখানে ঝাল বুট সুস্বাদু, তাই ভিশন পছন্দ আমার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী রোমিও বলেন, সন্ধ্যায় দুলু মামার দোকানে স্বাদের ঝালমুড়ি খেলে আর নাস্তা করতে হয় না।

102