অপর এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেন, দেখুন সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এক-এগারো কোন স্বয়ংক্রিয় ঘটনা নয়, বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি গোষ্ঠী সুযোগ নিয়ে এটা ঘটাতে একসময় বাধ্য করে একসময় প্ররোচিত করে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে মনে করি খুব স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির মাঠে পক্ষে বিপক্ষে কথা থাকবে যেকোন বিষয়ে। এটাই এটাই সৌন্দর্য।
এটাই ডেমোক্রেসির চর্চা। আমরা মনে করি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার কিংবা রাজনীতিতে যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন তাঁদের মতের মধ্যে দ্বিমত থাকবে, বৈচিত্র্য থাকবে আবার যৌক্তিক বিষয়ে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হবেন। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।
কিন্তু আমরা যে জিনিসটা আমাদের জায়গা থেকে মনে করি যে, আমরা যেন আমাদের এই বিভিন্ন কথা, মতামত, কিংবা পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন করে আবার ওই ফ্যাসিস্ট কিংবা তাদের কোন দোসরদের সুযোগ না দেই। তারা তো চাইবে আমাদের ঐক্যের ফাটল ঘটাতে।
এই ফাটলের সুযোগে যখন আমরা নিজের সঙ্গে নিজেরা বিভাজনে লিপ্ত হবো তারা এই সুযোগ টা নিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করবে।
সারজিস বলেন, আমরা মনে করি এখন সবচেয়ে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্যের জন্য সবার আগে যেকোন ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠীর স্বার্থের আগে বাংলাদেশের স্বার্থ চিন্তা করতে হবে।
এখন আমরা যদি সেটা চিন্তা করতে পারি তাহলে আমরা যে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি এই অভ্যুথানের যে স্পিরিট সেটা সফল হওয়া সম্ভব। আর যদি সেটা না পারি তাহলে খুব স্বাভাবিক ভাবে সেটা শুধু দেশে না এই চক্রান্ত এখন দেশের বাহিরে থেকেও হচ্ছে।
এবং এই খুনি হাসিনা, তিনি কিন্তু দেশের বাইরে থেকে এই বাংলাদেশেরে মানুষের যে লক্ষ-কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গেছেন সেগুলো দিয়ে এখন এই প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন, চক্রান্ত করছেন। আমাদের আসলে যেমন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার তার জায়গা থেকে সচেতন থাকবে, রাজনৈতিক দলগুলোরও তাদের জায়গা থেকে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
যে আমাদের ভিতরের কোন চিন্তা বা মতপার্থক্যের সুযোগ বাইরের কেউ নিচ্ছে কি না। আমরা মনে সবার আগে যদি দেশের স্বার্থ চিন্তা করতে পারি তাহলে যে স্পিরিট নিয়ে অভ্যুথান হয়েছে সেই স্পিরিটে সফল হওয়া সম্ভব।