1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
সৈয়দপুরে রেকর্ড পরিমাণ ফলনে কৃষকের মুখে হাসি | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন

সৈয়দপুরে রেকর্ড পরিমাণ ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫
  • ১৯৬ জন দেখেছেন

আবহাওয়া সম্পূর্ণভাবে অনুকূলে থাকায় এবারে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার সর্বত্র ইরি-বোরা ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে চলছে। এখন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শোভা পাচ্ছে কৃষকদের পাকা ইরি- বোরোর সোনালী ধান ক্ষেত। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর, কামারপুকুর, বাঙ্গালীপুর, বোতলাগাড়ী ও খাতামধুপুর এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় কোথাও কৃষকেরা ক্ষেতের পাকা ধান কাটছে, কেউবা ক্ষেত থেকে কাটা ধান বহন করে বাড়িতে নিয়ে আসছেন। আবার কেউ কেউ কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন কিংবা শ্রমিক নিয়ে ধান কাটা ও ঝাড়াই মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। ফলে কৃষকদের বাড়ির উঠান, খুলি বাড়ি, চাতাল কিংবা গ্রামের বিভিন্ন পাকা সড়কে চলছে বোরা ধান ঝাড়াই মাড়াই কাজ। কৃষি শ্রমিকদের সঙ্গে গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা এ সব কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। অনেক কৃষক-কৃষাণী আবার ধান সিদ্ধ করে চাল করতে খড় শুকাচ্ছেন। তবে গত সপ্তাহে কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক কৃষক সময় মতো ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেননি। তাই এখন সব জাতের ধান এক সঙ্গে পাক ধরাতে কৃষি শ্রমিকের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে অনেক কৃষকের ধান কাটার সময় অতিবাহিত হলেও শ্রমিক কিংবা ধান কাটা মাড়াই মেশিনের অভাবে তা কাটতে সমস্যা পড়েছেন।
উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর মাঝাপাড়া কৃষক মশিউর রহমান বাবু জানান, এবারে তিনি চার বিঘা জমিতে বোরা ধান আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে ধান পেকে কাটার উপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু গত সপ্তাহের ঝড়বৃষ্টির কারণে সময় মতো ধান কাটতে পারেননি। এখন আবার কৃষি শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে মারাত্মকভাবে। এক বিঘা জমির ধান কাটতে আট হাজার টাকা চাচ্ছেন শ্রমিকেরা। কিন্তু তারপরও কৃষি শ্রমিক মিলছে না সময় মতো। তিনি অনেকটা নিরুপায় হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ধান কাটা মেশিনের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু মেশিন দিয়ে ধান কাটা শুরু করতে আকস্মিক মেশিনে যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দেয়। মেশিন মালিক তা সারতে নিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি। কখন মেশিন মেরামত করা হবে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। খাতামধুপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর ঠকপাড়া বর্গা চাষী আছাদুল ইসলাম ওরফে নুন্নী জানান, তিনি অন্যের ৩০ শতক জমি বর্গা নিয়ে ২৯ জাতের ধান আবাদ করেছেন। গত বুধবার কৃষি শ্রমিক দিয়ে চার হাজার টাকা সেই জমির ধান কেটে নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কথা হলে তিনি জানান, আলহাদুলিল্লাহ্। এবারে ধানের ফলন ভাল হয়েছে। ভাতের জন্য কিছু ধান রেখে অবশিষ্ট ধান বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ৮ হাজার ২১৭ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সব কিছু ইরি-বোরো আবাদের অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৮ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। সে হিসেব মতে লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে প্রায় ৫শ’ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। এ বছর ইরি-বোরো মৌসুমে আবহাওয়া ছিল চাষাবাদের সম্পূর্ণ অনুকূলে। আর সেচ নির্ভর ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে সেচের কোন রকম সংকট ছিল না। বিদ্যূৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বিদ্যূৎচালিত সেচ পাম্পগুলোতেও কোন রকম সমস্যা দেখা দেয়নি। আর অন্যান্য বছরের মতো এবারে তেমন রোগ বালাইয় কিংবা পোকা মাড়কের আক্রমন ছিল না। তবে আবাদের শেষ দিকে এসে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে মাজরা, ব্লাষ্ট ও কারেন্ট পোকার আক্রমন দেখা দিলেও তেমন ক্ষতি হয়নি ফসলের। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষলিক তদারকি ও নিদের্শনায় আগেভাগেই ব্যবস্থা নেন কৃষকেরা।
উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই গ্রামের আদর্শ কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা আহসান-ইল হক বাবু জানান, এবারে তাঁর চাষকৃত সব জাতের ইরি-বোরো ধানের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। ভাল দামও মিলছে। বর্তমানে বাজারে ২৯ জাতের প্রতি বস্তা (৮০ কেজি) ধান এক হাজার ৭ শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে মোটা জাতের ধানের মূল্য কিছু কম বলে জানান তিনি।
উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ মো. ইমরান সরদার জানান, এবারে বোরো আবাদের কৃষকেরা অনেক ভাল ফলন পেয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর কৃষি ব্লকে একটি প্রদর্শনী প্লটে বিনা-২৫ জাতের ধানে হেক্টর প্রতি ৮.২ মেট্টিক টন ফলন মিলেছে।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ধীমান ভুষণ বলেন, এবারে উপজেলার সর্বত্র ইরি- বোরা ধানের রেকর্ড ফলন হয়েছে। আমরা গতকাল বৃহস্পতিবার কৃষি বিভাগের একটি প্রদর্শনী প্লটে ১০২ জাতের বোরো ধান ক্ষেত কর্তন করে হেক্টরে ৭.৩ মেট্টিন টন ধান ফলন পেয়েছি। ইতিমধ্যে উপজেলায় বেশির ভাগ ইরি-বোরা ধান কাটা মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। আর বর্তমানে বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ অর্থাৎ ঝড় বৃষ্টিপাত না হলে কৃষকেরা তাদের চাষাবাদ করা ধান ভালভাবে ঘরে তুলে পারবেন বলে বড় আশাবাদী তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )