কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বড়াইডাঙ্গী (শিমুলতলা) এলাকায় জমি দখল ও জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেছে আগেই এবার দোকান লুট করার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন আমার নামীয় জমি দখল করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেন আব্দুল রশিদ, ফজলু ও বাবুল গং। এবার সেখানে আমার একটি দোকান ছিলো সেটিও গত শনিবার ভোর রাতে লুট করেছে দখলদাররা দোকানে মুদি মালামাল লুট হয় বলে অভিযোগ করে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল হামিদ।
এর আগে জমি দখল ও জোরপূর্বক ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার গভীর রাতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল হামিদের বসতবাড়িতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীসহ প্রায় ৭০ জন হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে একই এলাকার আব্দুর রশিদ, ফজলু ও বাবুলের নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী বিনা অনুমতিতে হামিদের জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এসময় শব্দ শুনে আব্দুল হামিদ ও তার স্ত্রী রিনা খাতুন ঘর নির্মাণে বাধা দিলে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চালানো এই হামলায় আব্দুল হামিদ, তার স্ত্রী রিনা খাতুনসহ উভয় পক্ষের মোট ১২ জন আহত হন।
আহতদের স্থানীয়রা দ্রুত চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর অবস্থায় রিনা খাতুনকে প্রথমে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরদিন সন্ধ্যায় আরও একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে আব্দুল হামিদসহ আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল হামিদ অভিযোগ করে বলেন, “গত ১০ আগস্ট ভোরে আব্দুর রশিদ ও তার লোকজন জোরপূর্বক আমার জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে তারা আমার পরিবারকে বেধড়ক মারধর করে। আমি ও আমার স্ত্রীসহ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। চিকিৎসার সুযোগে তারা আমার জমিতে জোর করে ইটের দেয়াল তুলে জায়গা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।”
হামিদ আরও অভিযোগ করেন, “আমার দোকানের সমস্ত মালামাল টিনের বেড়া খুলে লুট করে নিয়ে গেছে। লক্ষাধিক টাকার পণ্য, দোকানের আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ লুট করেছে। এখন আমার পরিবার চিকিৎসার জন্য বাইরে, এই সুযোগে আমার প্রতিপক্ষ প্রথমে আমার জমি দখল করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করে এরপর আমার দোকান থেকে মালামাল লুট করে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ পক্ষের ফজলুর রহমান দাবি করেন, আমরা আমাদের নামী দলিলকৃত সম্পত্তি ঘর তুলেছি। কারো মালামাল লুট বা ক্ষতি করিনি। এবিষয়ে চর রাজিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন উভয়পক্ষই মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।