
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় সংঘটিত নির্মম ২ বছরের শিশু হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত মূল অপরাধীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত (১৭ এপ্রিল) শুক্রবার উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহাপাড়া এলাকায় প্রায় ১২ ঘন্টা পর বাড়ির পাশ থেকে দুই বছরের শিশু আয়শার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত শিশুর পিতা। এদিকে লাশ উদ্ধারের ১ সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও সঠিক তথ্য উদঘাটনসহ আসামী চিহ্নিন্ত এবং গ্রেফতার না হওয়ায় পরিবার সহ হতাশ হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনার এতদিন পরও পুলিশ কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তদন্তে ধীরগতি, প্রশ্নের মুখে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, শিশুটিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই দ্রুত তদন্ত শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরগতিতে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এমনকি সন্দেহ ভাজনদের তালিকাও সুস্পষ্ট নয়।
চিলমারী থানা পুলিশ জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তবে যতই দিন যাচ্ছে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে, আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের ধূম্রজাল। এদিকে ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরও বাঁধার মুখে পড়তে হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এত ছোট একটা শিশুকে এভাবে হত্যা করা হলো—এটা ভাবতেই কষ্ট লাগে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
শিশু হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় দীর্ঘ সময়েও অপরাধী গ্রেপ্তার না হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার জানান, এখনো আসামি সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তদন্ত চলছে।
Related