


গত কয়েকদিন থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে হিমেল হাওয়া ও শীতের প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে। মধ্যরাত থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এ অঞ্চল। এরফলে খোলা জায়গা, ঘরের ভেতর ও দোকানের সামনে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের প্রবণতা বেড়েছে। তবে অসতর্কভাবে আগুন পোহানো প্রাণহানি ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।
আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য মতে, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফায়ার সার্ভিস ও চিকিৎসকের দেয়া তথ্যমতে, শীতকালে আগুন পোহাতে গিয়ে কাপড়ে আগুন লাগা, দাহ্য বস্তু থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়া এবং ঘরের ভেতর কয়লা বা কাঠ জ্বালানোর ফলে ধোঁয়াজনিত শ্বাসকষ্টসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এছাড়া বন্ধ ঘরে কয়লা বা কাঠ জ্বালালে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমে অচেতনতা ও মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।
পাত্রখাতা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা তাজরুল ইসলাম বলেন, কি আর করি বাহে সকাল হইলে কুয়াশার জন্য বাইরে বার হওয়া যায় না। তাই বউ ছাওয়া পোয়া সহ ঘরের ভিতর আগুন জালিয়ে কিছুটা শান্তি দেই। শীতের দিনে কাম কাজ কম। কৃষক মাজেদুল ইসলাম জানান, আমাদের কাজে হলো মাঠে। শীতে কি আর ঠান্ডায় কি কাজ না করলে চলবো কি ভাবে। একদিন কাজ না করলে পেটে ভাত যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে শীতের মধ্যেও মাঠে গিয়ে কাজ করতে হয়। মাঝেমধ্যে ঠান্ডা কমানোর জন্য খড় দিয়ে আগুন জ্বালাই।
চিলমারী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার গোলজার হোসেন জানান, শীতকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে। আগুন পোহাতে গিয়ে অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে পড়েন। এই সময়ে ঘরের ভেতর কখনোই কয়লা বা কাঠ জ্বালানো যাবে না, আগুনের পাশে দাহ্য বস্তু, কাপড় বা প্লাস্টিক না রাখা, শিশুদের আগুনের কাছ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়াও খোলা জায়গায় আগুন লাগানো একদম নিষেধ রয়েছে।
চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু রায়হান জানান, প্রতিবছর এই সময়ে শীত নিবারণের জন্য আগুন পোহাতে গিয়ে অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে পড়ে। এমন রোগী আমরা পাই, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বন্ধ ঘরে আগুন পোহাতে এর ধোয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এছাড়াও স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে যায়, ফলে শীতের সময়ে আগুন পোহানো এড়িয়ে সম্ভব হলে গরম কাপড়, কম্বল ও নিরাপদ হিটার ব্যবহার করতে পারেন। আরেকটি বিষয় যেজায়গায় আগুন পোহানো হয়, এরপর অব্যশ্যই পানি দিয়ে ভিজে রাখতে হবে। অনেক সময় ছোট শিশুরা খেলতে গিয়ে বা চলাচল করতে সেখানে পা দিতে পারে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র বলেন, আগামী কয়েকদিন শীত ও কুয়াশার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও সবুজ কুমার বসাক জানিয়েছেন, চিলমারীর শীতার্তদের জন্য উপজেলায় ১ হাজার ৩ শ কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি। সেগুলা ইউনিয়ন পরিষদে মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে।