


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে প্রচার-প্রচারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। গতানুগতিক পোস্টার, লিফলেট আর মাইকিংয়ের ভীড়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে সম্পূর্ণ নতুন এক কৌশল বেছে নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রুকুনুজ্জামান। তার নির্বাচনী প্রতীক ‘বালতি’র পক্ষে ভোটারদের মাতাতে মাঠে নামানো হয়েছে ‘জোকার’, যা পুরো নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
রঙিন পোশাক পরা এক জোকারকে দেখা যাচ্ছে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বিভিন্ন হাটবাজার, মোড় ও জনসমাগম এলাকায়। গানের তালে নেচে-গেয়ে আর বিচিত্র অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তিনি মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার এই শৈল্পিক ও হাস্যরসবোধের মিশেল বয়স্ক থেকে শিশু সবার মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ভীড় জমিয়ে এই আনন্দময় প্রচারণা উপভোগ করছেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. রুকুনুজ্জামান বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি মানুষের কাছে বিরক্তির নয়, বরং আনন্দ ও বিশ্বাসের জায়গা হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষ সাধারণত রাজনৈতিক প্রচারণাকে ভীতিকর বা ক্লান্তিকর মনে করে।
আমি চেয়েছি হাসির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে। মানুষ যখন আনন্দের সাথে রাজনীতির সাথে যুক্ত হবে, তখন দেশ ও সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাও বাড়বে।’ নির্বাচনী মাঠে এমন ‘স্মার্ট’ প্রচারণা দেখে খুশি সাধারণ ভোটাররা। চিলমারীর গৃহবধূ শাপলা বেগম বলেন, পোস্টার-ব্যানারের চেয়ে এই জোকার দেখে শিশুরা অনেক খুশি। রাজনীতির পরিবেশ এমন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকলে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে আরও আগ্রহী হবে। তরুণ ভোটার রাশেদ মিয়ার মতে, ভিন্নধর্মী এই প্রচারণার কারণে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাহিদ হাসান এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ব্যতিক্রমী প্রচারণা ভোটারদের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক।
গ্রামীণ জনপদে প্রার্থীর বার্তা সহজভাবে পৌঁছে দিতে এটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে বিনোদনের পাশাপাশি প্রার্থীর জনসম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৭ জন প্রার্থী। মো. রুকুনুজ্জামান (বালতি – স্বতন্ত্র), মো. আজিজুর রহমান (ধানের শীষ), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), মাওলানা হাফিজুর রহমান (হাতপাখা), কে এম ফজলুল মন্ডল (লাঙল), আব্দুল খালেক (মই), রাজু আহম্মেদ (কেচি)। সব মিলিয়ে ‘জোকার’ চমকে নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। শেষ পর্যন্ত এই আনন্দের আমেজ ভোটের বাক্সে কতটা বালতি প্রতীকের পক্ষে যায়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।