জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী কে. এম. ফজলুল হক মন্ডল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মনোনীত প্রার্থী সেফালী বেগমের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্টের আদেশের পর সেফালী বেগমের মনোনয়ন বাতিল হয়।
এরপর বৈধ প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েন। ঠিক এই সময় হঠাৎ করেই ‘দুদু জোদ্দার’ নামে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবি করে ‘কুলা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে পোস্টারিং ও প্রচার চালাতে শুরু করেন। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দুদু জোদ্দার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবরিশাল নতুন আশ্রয়ন কেন্দ্র এলাকার ধনীয়া জোদ্দারের ছেলে। এর আগেও তিনি উলিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরিচয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে ‘হেলিকপ্টার’ প্রতীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী দাবি করে পোস্টারিং ও মাইকিং করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিলেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘দুদু জোদ্দার’ নামে সংসদ সদস্য পদে কোনো মনোনয়নপত্র বিতরণ বা জমা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, “ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দুদু জোদ্দার দাবি করেন, তিনি মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন এবং নিজেকে বৈধ প্রার্থী বলেই উল্লেখ করেন।
ঘটনার প্রকৃত সত্যতা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় স্থানীয়রা। নির্বাচন ঘিরে এমন ‘ভুয়া প্রার্থী’ বিতর্ক ভোটের মাঠে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।