


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমে গেছে। বার্তাসংস্থা এএফপি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমেছে।
গতকাল বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাবে। যারমাধ্যমে যুদ্ধ একেবারে শেষ হয়ে যাবে। এরপর ৩০ দিনের একটি মেয়াদ শুরু হবে। যেখানে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, ইরানিদের ওপর মার্কিনিদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত ও হরমুজ প্রণালি খোলার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তেলের দাম ১০৮ ডলার থেকে এক লাফে ১০০ ডলারে নেমে আসে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, ইরানের সঙ্গে তাদের চুক্তি হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময়ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৭০ ডলারের একটু বেশি। এখন দুই দেশের মধ্যে চুক্তির খবরে দাম কমলেও, আগের অবস্থায় যায়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেল উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পায়। এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ জ্বালানি সরবরাহ হয়। যেহেতু এটি প্রায় বন্ধ হয়ে আছে তাই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়।
এক্সিওস সম্ভাব্য চুক্তির প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি ইরান তাদের সঙ্গে শর্ত অনুযায়ী সমঝোতা না করে তাহলে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু হবে।