কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব খাঁ গ্রামে গতকাল (৩ জুন) বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোঃ আনারুল ইসলামের মেয়ে (৫) বুধবার সকালে প্রতিবেশী বাচ্চাদের সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশী চাচা মোঃ শফিকুল ইসলাম (৩৫) সব বাচ্চাদের খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে দোকানে নিয়ে যান। সবাইকে বিদায় করে ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে আসেন। মাঝপথে রাস্তার পাশে একটি শৌচাগারে সুরাইয়াকে টেনে নিয়ে যান এবং তাকে যৌন নির্যাতন করেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী তার মা মোছাঃ শারমিন বেগমকে ঘটনার বিস্তারিত বলে। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজন অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।
ভুক্তভোগীর চাচী মোছা: শাহিনা বেগম ও অভিযুক্ত শফিকুলের চাচী মোছা: রূপালী বেগম জানান, “শফিকুল ধর্ষণের পর শিশুটিকে ২০ টাকা দিয়ে কাউকে না বলার হুমকি দেয়।” তবে অভিযুক্ত শফিকুল বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা
ভুক্তভোগীর দাদা আব্দুল বাতেন নিশ্চিত করেন, অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী সুরাইয়াকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বিবাহিত এবং তার এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তিনি ঢাকায় দিনমজুরি করেন।
“অভিযুক্ত শফিকুল দোষী প্রমাণিত হলে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক”—এমনটাই দাবি গ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের।
এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি মোঃ শফিকুল ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)”-এর ৯(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।