
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের কয়েকটি সিলিং ফ্যান দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা। প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বারবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি সিলিং ফ্যান অচল অবস্থায় রয়েছে। ফলে রোগীদের গরম সহ্য করেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেককে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়। রোগীদের স্বজনরাও একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
পুরুষ ওয়ার্ডে গত ২০ দিন ধরে ভর্তি থাকা মোহাম্মদ আলী নামের এক রোগী বলেন, “অসুস্থ অবস্থায় গরমের মধ্যে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ফ্যানগুলো নষ্ট থাকায় রাতে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
রোগীর স্বজন মনজুরুল আহসান শামীম বলেন, “দিন-রাত রোগীর পাশে থাকতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ওয়ার্ডে বসে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কয়েকটি ফ্যান দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। অসুস্থ রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত দুর্ভোগের বিষয়।”
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “সরকার হাসপাতালের উন্নয়নে অনেক অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু এমন একটি মৌলিক সমস্যা দীর্ঘদিন সমাধান না হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের কষ্ট পেতে হচ্ছে। দ্রুত ফ্যানগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করা উচিত।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মেহেদি হাসান বলেন, “হাসপাতালের অন্যান্য কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই ফ্যানের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আহসান হাবিবের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত নষ্ট ফ্যানগুলো মেরামত অথবা নতুন ফ্যান স্থাপনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Related