
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গত বছর দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরে সেতু রক্ষা বাঁধকে রক্ষা করতে এলজিইডি কর্তৃক ১৪ লক্ষ টাকার বাঁশের পাইলিং প্রথম বন্যার পানিতে প্রথম দিনেই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে ।
এবছরে আজই প্রথম ডালিয়া পানি নিয়ন্ত্রণের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এলজিইডির নির্মিত মহিপুর সেতু রক্ষা বাঁধ রক্ষায় ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং ভেঙ্গে গিয়ে আবার সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নতুন করে ২০ মিটার ভেঙে গিয়েছে এবং ৩৫ ফুট গভীরতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পরবে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে অন্তত ৩০–৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হঠাৎ ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কসহ লহ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের প্রায় ১,২০০ পরিবার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে ।
বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রিপন ও কাইয়ুম বলেন, বছরের প্রথম আজ নদীতে পানি বাড়ল তাতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে । আমরা ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। ব্যবসায়ী শাহনাজ বেগম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শহরে যাই। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া জানান, আজ কোচিং যাওয়ার সময় দেখি বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে ।স্থানীয় কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আবাদি জমিও নদীতে চলে যাবে । অথচ এলজিইডি শুধু আশ্বাস দিয়েছে, কোনো কাজ করেনি।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, যখন এই বাঁশের পাইলিং নির্মাণ কাজ শুরু করে আমরা তখনই বলেছিলাম এটা টিকবে না। সরকারের চৌদ্দ লক্ষ টাকা অহেতুক খরচ হয়েছে। এর কোন উপকারিতা নাই। আজ প্রথম নদীতে পানি বেশি হওয়ায় পাইলিং ভেঙে গেছে, বাঁধও ভাঙছে।
এলজিইডি গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো: ওবায়দুল রহমান বলেন, গত বছর ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসে পরিদর্শন করে তারা এই বাঁশের পাইলিং দেওয়ার দিক নির্দেশনা দেন, যেহেতু এখন ভাঙ্গতেছে ওখানে গিয়ে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কতৃপক্ষকে জানাব ।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি আমি সরজমিনে দেখেছি, বাস্তবা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবহার নেওয়ার জন্য অনুরোধ করবো।
স্থানীয়দের দাবি, এখনই জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় পদক্ষেপ না নিলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
Related