নাওডাঙ্গা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বাবুর নেতৃত্বে শত শত তরুণ-যুবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে।
মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে নাওডাঙ্গা বকুলতলা বাজারের তিন কোণা মোড়ে পথসভায় মিলিত হয়।
পথসভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেলে করে বহিরাগত মাদকসেবীরা বিভিন্ন সময় এলাকায় এসে মাদক
সেবন করে পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং ভবিষ্যতে বহিরাগত মাদকসেবীদের এলাকায় প্রবেশ না করার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের এই মাদক বিরোধী কর্মসূচির খবর পেয়ে রাতে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের সদস্যরা এবং বিজিবির একটি দল বকুলতলা বাজারে উপস্থিত হন।
পুলিশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে গেলেও বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মাদকসেবন ও মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা করেন। প্রতিদিন মাদক বিরোধী অভিযান কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও সংগঠিত অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে এক বিরল ঘটনা। তারা মনে করছেন, জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধের এ ধারা অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং যুবসমাজ একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
নাওডাঙ্গা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বাবু বলেন, আমাদের এলাকার পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মাদকাসক্তির কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজন যুবকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অসংখ্য তরুণ-যুবক মাদকের ভয়াল ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এছাড়া প্রতিদিন নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চার থেকে পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেলে করে বহিরাগত মাদকসেবীরা এসে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও সামাজিক শৃঙ্খলাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, “এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে আমার ওয়ার্ডের শত শত তরুণ-যুবক একত্রিত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক বহিরাগত মাদকসেবীকে আটক করে তাদের এ এলাকায় আর না আসার জন্য সতর্ক ও অনুরোধ করেছে। এরপরও যদি তারা আমাদের এই অনুরোধ উপেক্ষা করে এবং মাদকসেবন অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পশ্চিম ফুলমতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং সদ্য গঠিত নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির অন্যতম সদস্য রফিকুল ইসলাম বিএসসি বলেন, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাটসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির কারণে সাধারণ মানুষ চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে মাদকের ভয়াল থাবায় তরুণ-যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। মাদক সংশ্লিষ্ট এসব অপতৎপরতা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা প্রতিরোধে নাওডাঙ্গার সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে কমিটির পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর কট্টর অবস্থান এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। স্থানীয়রা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকসেবন ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ প্রশাসনও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা পেলে মাদকের বিস্তার রোধ করা এবং তরুণ প্রজন্মকে এই ভয়াবহ অভিশাপ থেকে রক্ষা করা আরও সহজ হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশ ও জনসাধারণের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।