1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
রাজারহাটে অটোমেশন প্রযুক্তিতে মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন

রাজারহাটে অটোমেশন প্রযুক্তিতে মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা

ইমতিয়াজুল ইসলাম লাভলু, রাজারহাট(কুড়িগ্রাম)
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ২৫ জন দেখেছেন
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আধুনিক অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পুকুর,ছাদ ও উঠানে ‘অটোমেটেড ফিশ ফিডার’, এয়ারেটর এবং সিসি ক্যামেরার ব্যবহার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি,খরচ হ্রাস ও চাষিদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সরেজমিনে উপজেলার বোতলারপাড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,মৎস্যচাষি উমর ফারুক তার প্রায় দুই একর আয়তনের পুকুরে অটোমেটেড ফিশ ফিডার স্থাপন করেছেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহায়তায় জেলার বিভিন্ন পুকুরে এয়ারেটর,অটোমেটেড ফিশ ফিডার এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

উমর ফারুক জানান,প্রথমবারের মতো তিনি অটোমেটেড ফিশ ফিডার ব্যবহার করছেন। প্রায় ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের এই মেশিনে ১২০ কেজি পর্যন্ত মাছের খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাছকে খাবার সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ না থাকলেও সোলার শক্তিতে এটি চালানো সম্ভব। ফলে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমেছে, খাদ্যের অপচয় রোধ হয়েছে এবং সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে মাছের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান,এসব প্রযুক্তির ব্যবহারে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি মাছের খাদ্যের অপচয় কমছে। এয়ারেটরের মাধ্যমে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকায় তীব্র গরমেও মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি মাছ চাষে রাসায়নিক ও ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারও কমে আসছে।

মাছ চাষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পুকুরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে চুরি ও অন্যান্য ঝুঁকি কমছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট মোকাবিলা এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতেও এসব প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে পরিত্যক্ত বাড়ির ছাদ ও উঠানে ট্যাংকে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার প্রথমবারের মতো একোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করা হচ্ছে। রাজারহাট উপজেলার পাঁচটি ছাদ ও উঠানে স্থাপিত অস্থায়ী ট্যাংকে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার করে ভিয়েতনাম কই,ট্যাংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে।

 অনিতা রাণী বলেন,আগে তার তিনতলার ছাদটি পরিত্যক্ত ছিল। আরডিআরএস ও পিকেএসএফের সহায়তায় সেখানে এখন একোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করা হচ্ছে। অস্থায়ী দুটি ট্যাংকে ভিয়েতনাম কই ও ট্যাংরা মাছ চাষের পাশাপাশি ছাদ বাগানে মরিচ,শাকসবজি ও বিভিন্ন ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। এতে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আরডিআরএস বাংলাদেশের মৎস্য টেকনিক্যাল অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন,দারিদ্র্যপ্রবণ এ জেলার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বাড়াতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে আরডিআরএস বাংলাদেশ ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন।

রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন,উপজেলার বিভিন্ন পুকুরে প্রথমবারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। এটি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মৎস্যচাষিদের সময়,অর্থ ও ভোগান্তিও কমিয়ে আনবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )