


বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ। ৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া মহাযজ্ঞ এখন নেমে এসেছে ৩২ দলের নকআউট লড়াইয়ে। প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হয়েছে, স্পষ্ট হয়েছে সম্ভাব্য পথচিত্রও। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগের তুলনায় এখন শিরোপা দৌড়ের হিসাব অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। এই পর্যায়ে এসে আবারও আলোচনায় অপটা অ্যানালিস্টের সুপারকম্পিউটার। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বিভিন্ন ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে পূর্বাভাস দিয়ে আসা ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি নকআউট পর্ব শুরুর পর নতুন হিসাব প্রকাশ করেছে। আর সেই হিসাব বলছে, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তি—ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা।
নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই নিজেদের পূর্বাভাসের যথার্থতা দেখিয়েছে অপটা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি দেখিয়েছিল তারা, শেষ পর্যন্ত মাঠের ফলও হয়েছে ঠিক তাই।
সুপারকম্পিউটারের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপেদের সেই সম্ভাবনা ৮১.৫ শতাংশ। শুধু তাই নয়, কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৫৮.৩ শতাংশ, সেমিফাইনালে ৪২.৭ শতাংশ এবং ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ২৮.৪ শতাংশ।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানটি হলো শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা। সেই তালিকায়ও সবার ওপরে রয়েছে ফরাসিরা। অপটার হিসাব বলছে, ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১৮.৭ শতাংশ—যা বাকি সব দলের চেয়ে বেশি।
তবে নকআউটের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের মুখোমুখি হওয়া লিওনেল মেসিদের শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা ৮৯.২ শতাংশ, যা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ।
এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৭০.৫ শতাংশ, সেমিফাইনালে ৪৯.৬ শতাংশ এবং ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে শিরোপা নির্ধারণের চূড়ান্ত সমীকরণে সামান্য এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। অপটার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শিরোপা দৌড়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনদের সম্ভাবনা ৯.৭ শতাংশ।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে নিয়ে অবশ্য সুপারকম্পিউটার খুব বেশি আশাবাদী নয়। নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে মাত্র ৬.৫ শতাংশ, যা তাদের রেখেছে তালিকার পঞ্চম স্থানে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের সম্ভাবনা ৫.১ শতাংশ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের ৪.৭ শতাংশ এবং জার্মানির ৪.৪ শতাংশ।
চমক দেখানোর মতো অবস্থানে রয়েছে আরও কয়েকটি দল। কলম্বিয়ার সম্ভাবনা ৩.২ শতাংশ, আর্লিং হলান্ডের নরওয়ের ৩ শতাংশ, স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের ২.৫ শতাংশ এবং সুইজারল্যান্ডের ২.২ শতাংশ। নকআউট ফুটবলের অনিশ্চয়তায় এ দলগুলোর যেকোনো একটি বড় অঘটনের জন্ম দিতে পারে।
তিন স্বাগতিক দেশের একটি মেক্সিকোর বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১.৮ শতাংশ। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এবং বেলজিয়ামের সম্ভাবনা সমান—১.৬ শতাংশ করে। আর এশিয়ার অন্যতম সেরা দল জাপানের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে মাত্র ১ শতাংশ। তবে পরিসংখ্যান যতই কথা বলুক, বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—ফুটবল কখনোই কেবল সংখ্যা আর সম্ভাবনার খেলা নয়। এক মুহূর্তের জাদু, একটি ভুল কিংবা একটি অনুপ্রাণিত পারফরম্যান্স বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ।